Saturday, September 12

চাকরিতে সব কোটা তুলে মেধাকে প্রাধান্য দেবে

0

সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা তুলে দিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সুপারিশ প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোটা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। আজ সোমবার মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে রায় থাকায় এ বিষয়ে আদালাতের শরণাপন্ন হয়ে সরকার পরামর্শ চাইবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, কোটার নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আমরা মেরিটকে (মেধা) প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তবে কোর্টের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি খালি থাকে তবে খালি রাখতে হবে। এটার ব্যাপারে কোর্টের মতামত চাইব, কোর্ট যদি এটাকেও উঠিয়ে দেয় তবে কোটা থাকবে না।

‘আর কোর্ট যদি রায় দেয় না ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে তবে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি সবটুকু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এটা হলো প্রাথমিক প্রপজিশন,’ বলেন সচিব।

কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এ ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সময় পরপর তিন দিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে সড়কে অবস্থান নিলে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বানে এ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ওই ঘোষণা দেন।পরে গত জুলাইতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়। ওই কমিটিকে প্রথমত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। পরে অবশ্য সময় বাড়িয়ে  ৯০ কর্মদিবস করা হয়।

কমিটি গঠনের এক মাসের বেশি সময় পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ তথ্য জানালেন।মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোটা নিয়ে সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আমরা মেরিটকে (মেধা) প্রাধান্য দিয়ে অলমোস্ট (প্রায়) কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করবো।

‘তবে কোর্টের একটা রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। যদি খালি থাকে তবে খালি রাখতে হবে। এটার ব্যাপারে কোর্টের মতামত চাইবো, কোর্ট যদি এটাকেও উঠিয়ে দেয় তবে কোটা থাকবে না।’ তিনি বলেন, আর কোর্ট যদি রায় দেয়- ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে তবে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি সবটুকু উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এটা হলো প্রাথমিক প্রপজিশন।

পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সামনে আসবে কীভাবে— এমন প্রশ্নের জবাবে শফিউল আলম বলেন, তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, তারাও (পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী) অনেক অগ্রসর হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

তবে পরে সংসদে তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখতে হাই কোর্টের রায় আছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। প্রথমে কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় দেয়া হয়েছিল। পরে সময় বাড়িয়ে আরও ৯০ কর্মদিবস দেয়া হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.