Thursday, September 3

চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর পথে ৩ বছর বয়সী শিশু রৌশন

0

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: রৌশন রহমান। বয়স মাত্র ৩ বছর। এই সময় হেসে খেলে নাচানাচি করে বেড়ানোর কথা থাকলেও মরণব্যধি থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়ে টাকার অভাবে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে শিশুটি। চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না তার পরিবার। তাই ছেলেকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রৌশনের বাবা-মা।

রৌশন রহমান লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রান্নাথপাড়া গ্রামে ফেরদৌস-খাদিজা দাম্পত্তির একমাত্র সন্তান। সন্তানের চিকিৎসায় সর্বস্ব ব্যায় করে আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী বিজিবি’র ক্যাম্পের পাশে শ্বশুর আব্দুস ছামাদের বাড়িতে অশ্রয় নিয়ে আছেন তারা।

রৌশন রহমানের বাবা একজন শ্রমিক, মা গৃহিণী। অভাব অনটনের মাঝে চলে তাদের সংসার। অকালে মৃত্যুর হাত থেকে সন্তানের জীবন বাঁচাতে করুণ আর্তনাত দরিদ্র বাবা ফেরদৌস রহমান ও মা খাদিজার। তাই ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে চাচ্ছেন সহযোগীতা।

রৌশনের বাবা ফেরদৌস রহমান কান্নার সুরে জানান, আমি সামান্য একজন শ্রমিক, মানুষের দোকানে কাজ করি। এতে যা পারিশ্রমিক পাই তা দিয়ে সংসারই ভালভাবে চালাতে পারি না। চিকিৎসক আমার ছেলের উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এতে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। রৌশনকে প্রতিমাসে রক্ত দিতে হচ্ছে। আমার যেটুকু জমিজমা ও টাকা ছিল তা ইতোমধ্যে সন্তানের চিকিৎসায় ব্যায় করেছি। আর এত টাকা কোন ভাবেই যোগান দিতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। যদি সমাজের বৃত্তবানরা আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো ছেলেকে বাঁচাতে পারতাম।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান একেএম কামরুজ্জামান জানান, রৌশন থ্যালাসেমিয়ায় রোগে আক্রান্ত। রৌশনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যত দ্রæত সম্ভব ভারতে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। তাহলে হয়তো তার জীবন বাঁচানো যাবে। এতে বেশ কিছু টাকা খরচ হতে পারে। তার বাবা-মা অত্যান্ত গরীব, তাই রৌশনকে বাঁচাতে সমাজের বৃত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
রৌশন বাবার সাথে যোগাযোগ করতে, ০১৭২৩-৯৮৯৬৩১

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.