লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রমানসহ ঘুষের অভিযোগ দেয়ায় রোজেয়া বেওয়া (৩৬) নামে এক বিধবাকে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ওই উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি ঈদগা মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রোজেয়া বেওয়া ওই এলাকার মৃত সহিদার রহমানের স্ত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বিধবা রোজেয়া বেওয়াকে দুর্যোগ সহনীয় প্রকল্পের একটি বাড়ি দেয়ার প্রস্তাব দেন। যা পেতে উপজেলায় কয়েকটি টেবিলে টাকা দিতে হবে বলে অজুহাত দিয়ে বিধবার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন চেয়ারম্যান। প্রকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে রোজেয়া বেওয়ার ঘর নির্মান কাজ শুরু করেন ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী। কাজ শুরুতেই বালু ও রড কিনে নেন।
এ ছাড়াও নির্মান কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও বিধবাকে করতে বাধ্য করেন। এত টাকা খরচ করেও ঘরটি নিম্নমানের সামগ্রীতে তৈরী করায় নির্মান কাজ শেষ না হতেই ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে। যা নিয়ে গনমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন গত সোমবার সরেজমিনে তদন্ত করেন। এ ঘটনায় ঘুষ গ্রহনের বিচার ও ঘরটি পুক্তভাবে নির্মানের দাবি করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রমানসহ ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন বিধবা রোজেয়া বেওয়া। অভিযোগটি আমলে নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও।
মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল থেকে ফিরলে চেয়ারম্যানের ক্যাডার ওই গ্রামের মাহাবুল আলম দলবল নিয়ে বিধবাকে অতর্কিত ভাবে মারপিট শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে এসে মারপিটের শিকার হন বিধবার ভাই জাহেদুল ইসলাম (২৮)। স্থানীয়রা তাদের দুই ভাইবোনকে উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা বিধবা রোজেয়া বেওয়া বলেন, তদন্ত কমিটির অফিসার চলে যাওয়ার পরপরেই চেয়ারম্যানের ক্যাডার মাহাবুল দলবল নিয়ে এসে কিলঘুসি মারতে থাকে এবং জানতে চায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার কারন ও অভিযোগ তুলে নেয়ার হুমকী দেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।
পলাশী ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, তাকে মারপিট করেনি, শুনেছি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ায় তারই প্রতিবেশীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করেছে মাত্র।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. বিশ্বজিৎ কুন্ড বলেন, বিধবা বুকে ও গলায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের দুই ভাইবোনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, আহত বিধবার পরিবার মারপিটের বিষয়টি মোবাইলে জানিয়েছেন। থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। চেয়ারম্যানের ঘুষের বিষয়টি তদন্তে কমিটি কাজ করছে।