Tuesday, September 22

চোখের ছানি রোগের লক্ষন

0

চোখের আইরিশ বা কালো পর্দার পিছনে স্বচ্ছ বা পরিস্কার কাঁচের মত যে জিনিসটি আছে তাকে লেন্স বলে। আলোকরশ্মি এই লেন্সের মধ্য দিয়ে চোখের পিছন দিকে স্নায়ুপর্দা বা রেটিনাতে পড়ে। তবেই আমরা কোন জিনিস দেখতে পাই। যদি কোন কারণে এই লেন্সটি অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে যায় তখন তাকে আমরা ছানি বা ক্যাটার্যাক্ট বলে খাকি। আলোকরশ্মি কোন অস্বচ্ছ বস্তুর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। তাই ছানি পড়ে গেলে আলোকরশ্মি চোখের রেটিনাতে পৌঁছাতে পারে না। ফলে ছানি পড়া চোখে দেখা যায় না। তবে দৃষ্টিশক্তি আস্তে আস্তে কমে আসে। পৃথিবীব্যাপী অন্ধত্বের চারটি প্রধান কারণের মধ্যে ছানি একটি। অন্য কারণগুলো হলো- কর্ণিয়ার রোগ, গ্লুকোমা ও ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ। আমাদের দেশেও ছানি অন্ধত্বের একটি অন্যতম প্রধান কারণ।

ছানির প্রকারভেদ

১. জন্মগত ছানিঃ কোন কোন শিশু ছানি নিয়ে জন্ম গ্রহণ করতে পারে বা জন্মের পর পরই ছানি দেখা দিতে পারে। এ ধরণের ছানিকে জন্মগত ছানি বলে। এক তৃতীয়াংশ জন্মগত ছানি সাধারণত: বংশগত। গর্ভাবস্থায় মায়ের কোন কোন অসুখ যেমন- রুবেলা, টক্সোপ্লাজমোসিস, সাইটোমেগালোভাইরাল ডিজিজ, মাম্স, ইনফ্লুয়েন্জা ইত্যাদি হলে সন্তানের এ ধরণের ছানি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা যদি অতিরিক্ত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করে তবেও সন্তানের এ ধরণের ছানি হতে পারে।

চিকিত্সাঃ জন্মের পর পরই যদি পূর্ণ ছানি দেখা দেয় তবে জন্মের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছানি অপারেশন করা উচিত। দেরীতে বা বেশী বয়সে ছানি অপারেশন করলে চোখ অলস চোখে পরিণত হতে পারে।

২. বয়সজনিত ছানি বা এজ রিলেটেড ক্যাটার্যাক্টঃ এ ধরণের ছানিই সবচেয়ে বেশী হয়। বযস বাড়ার কারণে এ ধরণের ছানি হয়। পরিণত বয়সে ছানি পড়তে শুরু করে ৫০-৬০ বত্সর বযসে। বয়স ৬০-৭০ বছর হলে ছানি পড়াটা খুব স্বাভবিক। তবে অনেকের বংশগত কারণে ৪০-৪৫ বছর বযসেও ছানি পড়তে পারে। বয়স বেশী হলে ছোখের লেন্সের মধ্যে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন সাধিত হয়ে লেন্স অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে যায় এবং ছানি পড়ে।

লক্ষণসমূহঃ

* চোখের দৃষ্টি ধীরে ধীরে কমতে থাকে

* প্রাথমি অবস্থায় দূরের জিনিস ঝাপসা বা কুয়াশাচ্ছন্ন দেখা যায়

* পরে দৃষ্টিশক্তি কমতে কমতে চোখ প্রায় দৃষ্টিহীন হয়ে যায়

* লেন্স সাদা বা বাদামী হয়ে যায়

চিকিত্সাঃ ওষুধে এর কোন উপকার হয় না। অপারেশনই এ রোগের একমাত্র চিকিত্সা।

৩. জটিল ছানি বা কমপ্লিকেটেড ক্যাটার্যাক্টঃ এ ধরণের ছানি যে কোন বয়সে হতে পারে। চোখের কিছু প্রাথমিক রোগের জটিলতা থেকে এ ধরণের ছানি হয়ে থাকে। যেমন- আইরিশের প্রদাহ, রেটিনার রোগ (রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা, জাইরেট এট্রোপি ইত্যাদি), উচ্চ মাত্রার নিকট দৃষ্টি বা হাই মায়োপিয়া, গ্লুকোমা ইত্যাদি।

চিকিৎসাঃ চোখের প্রাথমিক রোগের চিকিত্সা করে তারপর ছানি অপারেশন করা হয়। ছানি অপারেশনের পূর্বে বি-স্ক্যান আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে চোখের ভিট্রাস বা রেটিনার অবস্থা দেখে নেয়া ভাল।

৪. আঘাতজনিত ছানি বা ট্রমাটিক ক্যাটার্যাক্টঃ চোখে কোন আঘাত লাগলে যে কোন বয়সে এ ধরণের ছানি পড়তে পারে। তাছাড়া ইলেকট্রিক শক, এক্স-রে, গামা রে, সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি ইত্যাদিতেও এ ধরণের ছানি পড়তে পারে।

চিকিৎসাঃ প্রথমে বি-স্ক্যান আলট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে চোখের ভিট্রাস বা রেটিনার অবস্থা দেখা হয়। তারপর ছানি অপারেশন করে চোখে কৃত্রিম লেন্স লাগানো হয়।

৫. বিপাকজনিত ছানি বা মেটাবলিক ক্যাটার্যাক্টঃ ডায়াবেটিস, গ্যালাক্টোসেমিয়া ইত্যাদি বিপাকজনিত রোগে যে কোন বয়সে ছানি পড়তে পারে। ডায়াবেটিস হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের অ্যাকুয়াস হিউমারেও গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তখন বেশী পরিমাণে গ্লুকোজ লেন্সের কর্টেক্সে ঢুকে। এতে লেন্সের কর্টেক্সের পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে লেন্সের স্বাভাবিক বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয় ও লেন্স অস্বচ্ছ বা ঘোলাটে হয়ে যায়।

চিকিৎসাঃ চিকিত্সার মাধ্যমে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণ করে পরে ছানি অপারেশন করা হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ছানি অপারেশনে কোন বাধা বা ভয় নেই।

৬. ওষধজনিত ছানি বা টক্সিক ক্যাটার্যাক্টঃ কোন কোন ওষুধ যেমন স্টেরয়েড বেশী মাত্রায় বা দীর্ঘদিন ধরে সেবন করলে চোখে ছানি পড়তে পারে। অন্যান্য যেসব ওষুধে ছানি পড়তে পারে তা হলো- ক্লোরপ্রোমাজিন, মাইয়োটিকস, বুসুলফ্যান, অ্যামিওড্যারন ইত্যাদি।

চিকিৎসাঃ যে ওষুধ সেবনের কারণে ছানি পড়তে পারে, তা সেবন বন্ধ করতে হবে। তারপর ছানি অপারেশন করতে হবে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.