লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ছাগলে ভুট্টা ক্ষেত খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একই পরিবারের ৭ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্রসহ নয়ন মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃত নয়ন মিয়া ওই গ্রামের ছন্দু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চড়িতাবাড়ি গ্রামের মৃত মোতালেব মিয়ার ছেলে এন্তাজ মিয়া ও তার ভাই ছন্দু মিয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধিন রয়েছে। শনিবার বিকালে ছন্দু মিয়ার একটি ছাগল এন্তাজের ভুট্টা ক্ষেত খাচ্ছিল। এন্তাজের পরিবারের লোকজন ছাগলটি ক্ষেত থেকে তাড়িয়ে দিলে উভয় পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা বাঁধে। এর এক পর্যায়ে ছন্দু মিয়া তার পরিবারের ৮/৯ জন মিলে ছোড়া, রাম দা, বল্লম নিয়ে এন্তাজ মিয়ার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এতে এন্তাজ মিয়া (৬২), তার স্ত্রী ফজিলা বেগম (৫৪), ভাই বকুল মিয়া (৫২), ভাইয়ের বউ রোকেয়া বেগম (৪৮), ছেলে শাহ আলম (২৮), রতন মিয়া (৪১) ও ছেলের বউ সুফিয়া বেগম (৩৪) আহত হন।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করে এবং ঘাতক নয়ন মিয়াকে দুইটি রাম দা সহ গ্রেফতার করে। আহতদের মধ্যে শাহ আলম, রতন ও ফজিলাকে আশংকাজনক অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আরিফ মাহফুজ বলেন, আহতদের ৩ জনকে আশংকাজনক অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকী ৪ জনকে এ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় এন্তাজ মিয়ার ছেলের বউ সুফিয়া বেগম বাদি হয়ে ছন্দু মিয়াসহ ৬ জনকে আসামী করে আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুইটি রামদা সহ নয়ন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।