Tuesday, September 1

ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নিহত ৩

0

ছেলেধরা আতঙ্কে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ শনিবারও ঢাকায় দুই ও নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে গত ৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে ও ১৮ জুলাই নেত্রকোনায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে নেত্রকোনায় গণপিটুনির শিকার ওই ব্যক্তির ব্যাগ থেকে একটি শিশুর মাথাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশ ও এলাকাবাসীর। এছাড়াও ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে গণপিটুনির শিকার হন তিনজন। নিজস্ব রিপোর্টার ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে ডেস্ক রিপোর্ট।

রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে অজ্ঞাত পরিচয়ের (৪০) এক নারী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে কাঁচাবাজার সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উত্তর বাড্ডায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদরাসা পাশাপাশি অবস্থিত।
শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনজন বোরকা পরিহিত নারী ওই এলাকায় যান। তারা স্কুলের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। বাধার মুখে দুজন পালিয়ে গেলেও আরেকজন গণপিটুনির শিকার হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

কেরানীগঞ্জ: কেরানীগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাতপরিচয় দুই যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। এতে এতজন নিহত হয়েছেন, অন্যজনকে গুরুতর আহতবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মালঞ্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ঐ দুই যুবক গ্রামে ঘোরাঘুরি করতে থাকে এবং শিশুদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। এতে তাদের উপর সন্দেহ হলে এলাকাবাসী ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মালঞ্চ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবক নিহত হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় প্লে গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। গণপিটুনিতে নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল আমিননগর এলাকায় সকাল আটটায় স্কুলের প্লে গ্রুপের এক শিক্ষার্থীকে এক যুবক জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় দুজন শিক্ষার্থী তাকে দেখে চিৎকার করলে ওই যুবক নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। ইতোমেধ্যে মেয়েটির বাবা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে ওই যুবককে দাঁড়াতে বললে সে একটি রিকশা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় আশপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শাপলা চত্বর এলাকায় ২২ থেকে ২৫ বছরের এক নারী খেলনা ও খাবার দিয়ে এক শিশুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহ হলে তারা শিশুটি কার জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দেয়া শুরু করে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাহীদুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, পদ্মাসেতুর জন্য শিশুর মাথা লাগবে বলে একটা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে। এরপর থেকেই আসতে শুরু করেছে গণপিটুনির খবর।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.