জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকে পৃথিবীকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে শনিবার বিশ্বের ৮০টি দেশের ৮ শতাধিক জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা থ্রি-ফিফটি ডট ও.আর.জি-এর উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি জানান লাখ লাখ মানুষ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিকোয় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট-২০১৮ এর আগে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে এ সমাবেশ হলো।
জলবায়ু পরিবর্তন রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে শনিবার ফ্রান্সের প্যারিসে সমাবেশ করেন হাজার হাজার মানুষ। ভূমিধস, বন্যা, বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে পৃথিবীকে রক্ষায় ব্যাপকহারে বনায়নের পাশাপাশি সমুদ্র দূষণ বন্ধে প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান তারা।
একজন বলেন, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমণ বন্ধ করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় জলবায়ু রক্ষায় প্যারিস চুক্তির পর এর হার আরো বেড়েছে। জৈববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। ভূমি রক্ষায় কৃষিজমিতে শিল্পায়ন অবশ্যই বন্ধ করা উচিৎ।’
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় একই দাবিতে সমাবেশে অংশ নেন কয়েক হাজার পরিবেশকর্মী। ‘রাইজ ফর ক্লাইমেট’ শীর্ষক বৈশ্বিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে স্থানীয় পরিবশেবিদরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটির ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ।
আরেকজন বলেন, ‘সবুজ পৃথিবীর জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের দাবি জানাতে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। জলবায়ু রক্ষায় কার্বন নিঃসরণ এবং গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিশাল জাহাজে কোরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন সতর্কতা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন বহু মানুষ। তারা জলবায়ু রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। দেশটিতে সফররত হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
থ্রি-ফিফটি ডট এআরজি প্রধান নির্বাহী বাইর প্যালেস বলেন, ‘আজকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বললেন প্যারিস চুক্তি থেকে সরে যাবেন তারা। তার অর্থ জলবায়ু পরিবর্তন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে না দেশটি। জনমত ও সচেতনতা তৈরির লক্ষে অস্ট্রেলিয়ায় ৫০টি স্থানে আমরা রাইজিং ফর ক্লাইমেট স্লোগানে জলবায়ু সুরক্ষার দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করেছি।’
জলবায়ু রক্ষায় জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর রাস্তায় সমাবেশ করেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিতের দাবি জানান তারা।
প্যারিস, ব্রাসেলস থেকে উগান্ডার রাজধানী, সবখানে সবাই জলবায়ু রক্ষার দাবিতে জেগে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র খরায় ক্যালিফোর্নিয়া এখনো দাবানলে জ্বলছে, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা থ্রি-ফিফটি ডট ওআরজি-এর আহ্বানে জলবায়ু রক্ষায় যোগ্য নেতৃত্বের দাবিতে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন করার জন্য ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশের ৮ শতাধিক জায়গায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
২০২১ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রার গড় বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনতে ২০১৫ সালে প্যারিসে ১৯৬টি দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। যা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নামে পরিচিত। কিন্তু ২০১৭ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বেড়িয়ে গেলে সঙ্কটে পড়ে এর লক্ষ্য বাস্তবায়ন।
ট্রাম্প সরে গেলেও জলবায়ু রক্ষায় জাতিসংঘ, ফেসবুক, গুগোলহ কয়েকটি সংস্থার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নরের সহযোগিতায় সান ফ্রান্সিসকোয় ১২ থেকে ১৬ই সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট-২০১৮।
তথ্য সংগ্রহ কালের কন্ঠ