চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের তৃতীয় তলায় সংগঠনের কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ বাইজিদ ইমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ফয়সালের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরিণ আখতার ও মূখ্য আলোচক হিসাবে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত হত্যাকান্ড পুরো বিশ্ব বিস্ময়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছে, প্রতিবাদ করেছে। বঙ্গবন্ধুর কাছের লোকজনই তাঁকে ঘিরে রেখেছে। তারা ভালো মানুষদের কাছে আসতে দেননি, ষড়নন্ত্র করেছে। এখন অনেক মানুষ আওয়ামীলীগের অনেক বড় মাপের অনুসারী হয়ে গেছে। লবিং করে বঙ্গবন্ধু কন্যার পাশে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, সংকটে ফেলে। শংকার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর জীবন দর্শন প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। যার প্রমান কুদরত-ই খুদা শিক্ষাব্যবস্থা। তিনি আমাদের এ দেশ উপহার দিয়েছিলেন বলেই আমরা কেউ শিক্ষক কেউ শিক্ষার্থী। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেতা নয়, তিনি বিশ্বনেতা। তিনি বিশ্ব ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করতে হবে। অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি যে সোনার বাংলা চেয়েছিলেন তা তোমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু একজন নেতা নয় তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের সমস্ত কাজে বঙ্গবন্ধুকে লালন করি। আমি আমার পিতা আর জাতির পিতাকে কখনো আলাদা করিনি। তিনি তার সারাটা জীবন বাঙ্গালি জাতিকে দিয়ে গেছেন। আমরা জাতি হিসাবে অনেক অনেক সময় লজ্জাবোধ করি যে এমন একটি মানুষকে মেরে ফেলতে পার! বঙ্গবন্ধু কখনো মুছে যাবেনা। মৃত বঙ্গবন্ধু জীবিত বঙ্গবন্ধু থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।
মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনা করতে হলে আগে নিশ্চিত হতে হবে আমরা বঙ্গবন্ধুকে কিভাবে চিনবো। এটা যেমন ঠিক বঙ্গবন্ধু একটা অপ্রস্তুত জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তেমনি তাকে নেতা মেনে নিয়ে এর বাস্তবায়ন শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। বঙ্গবন্ধু আমার কাছে কোন ব্যক্তি নয়, সে আমার অনুভূতি, বিশ্বাস এবং আদর্শ।
এর আগে সভার শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ও তাঁর পরিবার, জাতীয় চার নেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও সদ্য প্রয়াত দৈনিক সমাকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া আরো বক্তব্য রেখেছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও ফটোগ্রাফি) ফরহাদ হোসেন খাঁন, সমিতির সহসভাপতি মুমিন মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসাইন, অর্থ, সংস্কৃতি ক্রীড়া সম্পাদক জয় দাশ, প্রচার প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ রাকিব ও সদস্য আব্দুল্লাহ আব্বাস প্রমুখ।