বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমানবাহিনীর এক বিদ্রোহের ঘটনায় সামরিক আদালতের দেয়া দণ্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা একটি রিট আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের তালিকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে আজ রোববার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
৬ মে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮৮ পরিবারের সদস্যদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান রিট আবেদনটি করেন।
রিটে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক আইনে সেনাসদস্যদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং ফাঁসি দিয়ে লাশ কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে যুক্ত করা একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ভোররাতে বিমানবাহিনীতে ভয়াবহ এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। কঠোরভাবে সেই বিদ্রোহ দমন এবং সামরিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়া হয় ১১ অফিসারসহ ১ হাজার ৪৫০ বিমান সেনাকে। বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত হন আরও চার হাজার বিমানবাহিনীর সদস্য। এ ছাড়া অসংখ্য সদস্য নিখোঁজ হন।
২০১০ সালের ২ অক্টোবর সে বিদ্রোহের পুনঃতদন্ত দাবি করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বিমানবাহিনী বিদ্রোহের ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই খবরে বলা হয়, ১৯৭৭-এর বিমানবাহিনী বিদ্রোহের পর অন্যায়ভাবে অনেক বিমান সেনাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। তাদের অনেকের লাশও পাননি পরিবারের সদস্যরা।
এ ছাড়া ওই ঘটনার পর অনেকের সন্ধান মেলেনি। আজও বিচার হয়নি সেই ঘটনার, কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবারগুলো। তারা সেই ঘটনা পুনঃতদন্ত করে দেখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।