জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থের উৎস নিয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্য এবং আপিল শুনানির জন্য আরও সময় চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় আদেশের জন্য রেখেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ।
সোমবার শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্টে আমাদের আপিলের আর্গুমেন্ট এখনও শেষ হয়নি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমাদের আরও সময় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ট্রাস্টের অর্থের উৎসের বিষয়ে দেয়া প্রতিবেদনের ওপর হাইকোর্টের কাছে আদেশ প্রার্থনা করেছি। কিন্ত কোনো আদেশ পাইনি। আদালত আদেশ না দেয়ায় আমরা আপিল বিভাগে এসেছি।
জবাবে আদালত বলেন, আমরা আর কবার সময় দেব, সময় তো দিলাম। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুদক আইনজীবী এ আবেদনের বিরোধিতা করেন।
তারা বলেন, উনারা (খালেদা জিয়ার আইনজীবী) আপিলে ২৬ দিন শুনানি করেছেন। এ মামলায় সময়ক্ষেপণের জন্য তারা বারবার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় আদেশের জন্য রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। গত সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থের উৎস নিয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্যের বিষয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আদেশ চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।
কিন্তু আদালত জানান, যুক্তি উপস্থাপন শেষে ওই আবেদনের ওপর আদেশ দেয়া হবে। এর পরও এ বিষয়ে তারা আদেশ চাইলে আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত রাখার আদেশ দেন।
পর দিন মঙ্গলবার আপিল শুনানির আগে ট্রাস্টের অর্থের উৎসের বিষয়ে দেয়া প্রতিবেদনের ওপর আদালতের কাছে আদেশ প্রার্থনা করেন আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী।
কিন্তু আদালত আদেশ না দেয়ায় এ বিষয়ে আপিল বিভাগে যাওয়া হবে বলে জানান তারা। তাই মামলার মূল আপিল শুনানি একদিনের জন্য মুলতবি করার আরজি জানান।
কিন্তু আদালত শুনানি মুলতবি না করায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শুনানি বয়কট করে আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
এর পর আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।পরে আদেশের জন্য পর দিন বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতবি রাখেন আদালত।
এদিকে মামলাসংক্রান্ত উৎস নিয়ে অতিরিক্ত সাক্ষ্যের বিষয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে দাখিল করা আবেদনের ওপর শুনানি না নিয়ে তা শুধু নথিভুক্ত রাখায় সে আদেশের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বিকালে চেম্বার আদালতে যান তার আইনজীবীরা।
গত বুধবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং শুনানির জন্য গত রোববার দিন নির্ধারণ করে দেন। রোববার শুনানি হয়নি। পরে আজ সোমবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল আবেদন করা হয়। এর পর থেকে হাইকোর্টের এ বেঞ্চে আপিল শুনানি চলছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তির নির্দেশনা রয়েছে।