Tuesday, September 22

পাহাড় ধ্বস রোধে চট্টগ্রামে উচ্ছেদ অভিযান
ঝুকিঁপূণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হল প্রায় ৫শ পরিবার

0

চট্টগ্রাম জুড়ে ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের আবারও উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। (১১ জুন) সোমবার দিনভর নগরীর লালখানবাজার মতিঝর্ণা পোড়াপাহাড়, বয়োজিদের আমিন আমিন জুট মিলের আমিন কলোনী, টাংকির পাহাড়, মিয়ার পাহাড়, খুলশী পাহাড়, জালালাবাদ পাহাড়, আকবরশাহ পাহাড় ও পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত মোট ৪৯০ টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। অভিযানকালে ১৪০ টি টিনের তৈরি কাচা ঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ববসবাসরত মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এ ছাড়া যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ টি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

উল্লিখিত ঝুকিপূর্ণ এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা একযোগে পাহাড়ে দুর্ঘটনা রোধে কাজ করছে। মহানগর এলাকায় ৬ টি রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি)গণের তত্ত্বাবধানে স্ব স্ব এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মাইকিং করে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যেহেতু ভারী বর্ষণ হচ্ছে, সেহেতু পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। যেকোন দুর্ঘটনা ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে তাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।কিন্তু মাইকিং করেও বসবাসকারীরা কোন কর্ণপাত না করায় সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের একাধিক সহকারি কমিশনার (ভুমি) উচ্ছেদ অভিযানে নামে। অভিযানে সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় হতে কয়েকশ পরিবারকে সরিয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ে অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে।অনেকে তাদের পরিচিত শহরে বসবাসরত আত্মীয় স্বজনের কাছে চলে গেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা প্রায় দেড় শতাধিক ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার কথা জানিয়েছে অভিযানে নের্তৃত্ব দেওয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জানান, চট্টগ্রাম নগরীর ছোট-বড় ১৩টি পাহাড় চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করে পানি ও বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বার বার মাইকিং করে তাদেরকে সরে যাবার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাহাড় ধসসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ স্বেচ্ছাসেবী ও উদ্ধারকর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নগরীর ১৩টি ঝুঁকিপুর্ণ পাহাড় ও টিলার মধ্যে ১১টিতে সবচেয়ে বেশি ৬৬৬ পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।

বিগত ১০ বছরে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় ১০টি পাহাড় ধস ও ভূমি ধসের ফলে অন্তত দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনের সতর্কতা সত্বেও পাহাড় দখল করে ওঠা ঘরবাড়ি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। শুধু ২০০৭ সালের ২১ জুন নগরীর সেনানিবাস সংলগ্ন কাইচ্ছাগোনাসহ সাতটি এলাকায় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতায় ১২৭ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১২ ও ১৩ জুন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধস, গাছ চাপায় ব্যাপক প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, গত কয়েকদিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৫০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, সোমবার বেলা ১২টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ২৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.