Monday, August 24

বেড়েছে গরম কাপড়ের কদর
টানা ৬ দিনের শৈত্য প্রবাহে চিলমারীতে ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সীমাহীন

0

আরিফুল ইসলাম সুজন, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরের জনপদ কুড়িগ্রামের নদীর তীরবর্তি উপজেলা চিলমারী মানুষজন। প্রকট শৈত্য প্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত ৬দিন ধরে সূর্যের দেখাও মিলছে না। দিনে বেলা মেঘাচ্ছন্ন আকাশে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছে শিশির। কুয়াশার সাথে বইছে হিমেল হাওয়া। ফলে দিনে রাতে প্রচন্ড ঠান্ডায় অস্থির নদীবেষ্টিত এ উপজেলার মানুষজন। ঘন কুয়াশা আর শৈত্য প্রবাহের তীব্রতায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে বসা স্বল্প মূল্যের পুরাতন কাপড় কেনার জন্য দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে শীতার্ত মানুষ। নিজেদের সাধ্যমত কিনছেন সামান্যতম শীতবস্ত্র।
গরম কাপড়ের অভাবে যেন শীতের সময় সন্তানরা কষ্ট না পান তাই অল্প টাকা দিয়ে সন্তানদের জন্য ভারী পোশাক কিনেছেন বলে জানা যায় দিনমজুর নুর ইসলাম, আব্দুল মজিদ, লাল মিয়া, সাজুর কাছ থেকে ।
শীত বস্ত্র কিনতে আসা চরা লবাসি মুকুল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ৫ দিন থেকে সুর্যের দেখা নাই, কোন কাজ কর্ম নাই সারাদিন বাসায় থাকতে হয়। শীত নিবারনের জন্য কমদামে ঠান্ডার কাপড় কিনতে আসছি।
রহিমা বেগম এর বলেন, এই শীতে বাচ্চাদের খুব কষ্ট হচ্ছে তাই ফুটপাত থেকে অল্প টাকায় বাচ্চার ঠান্ডার কাপড় কিনতেছি।
ফুটপাতের দোকানদারদের সথে কথা বলে জানা যায়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারই বেশি।তবে সেই সাথে ভ্যান চালক, রিকশা চালক, দিন মজুরসহ হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষরাই এখান থেকে শীতবস্ত্র কিনছেন। আমাদের কিনতে আসা সুয়েটার, ট্রাওজার, জ্যাকেট, মাফলার, প্যান্ট, সার্ট ও মোজাসহ হরেক রকমের শীতের কাপড় ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩ থেকে ৪শত টাকা পর্যন্ত দামে কাপড় বিক্রি হচ্ছে ।
সন্ধ্যার পরপরই গ্রাম ও শহরের দোকানগুলো ক্রেতা সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। দিনে বা রাতে অনেকেই খড়কুটো জালিয়ে শীত নিবারণের জন্য চেষ্ঠা করেন এসব শীতার্ত মানুষ। তীব্র শীতের কারণে দিনমজুররা কাজকর্ম তেমন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট সীমাহীন আকার ধারণ করেছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.