
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্প্রসারিত ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
বুধবার ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হয়েছে। তবে আগের রাতে সিল মারার শঙ্কায় ঢাকার দুই সিটির ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের ব্যালট পেপার আগে পাঠানো হয়নি।
তবে মেয়র পদের ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে কাউন্সিলর পদের ব্যালট পেপার পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে ইসি।
ডিএনসিসির মেয়র পদে উপ-নির্বাচন, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন, দুইটি ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচন এবং ডিএসসিসি’র নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের মেয়াদ হবে এক বছর। ২০২০ সালের মে মাসের দিকে এই দুই সিটির সব পদে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়র পদের ব্যালট পেপার গতকাল বুধবার ৩৬টি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পুলিশি নিরাপত্তায় উত্তরের ১৮টি ওয়ার্ডের মেয়র ও কাউন্সিলর এবং দক্ষিণের ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের ব্যালট পেপার পাঠানো হয়।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, প্রতি সাধারণ কেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ১৯ জন করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৩ জন করে ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।
নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনাসারের সমন্বয়ে মোট ২৭টি মোবাইল টিম নিয়োজিত আছে। এছাড়া নিয়োজিত রয়েছে ১৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ২৭টিম ও ২৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পদে আওয়ামী লীগসহ চারটি রাজনৈতিক দলের চারজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তবে এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির সঙ্গে ১৮টি করে নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় সেগুলোতেও ভোট গ্রহণ হচ্ছে। নবনির্বাচিতদের মেয়াদ হবে এক বছরের কিছু বেশি সময়। সব দল অংশগ্রহণ না করা এবং মেয়াদ কম থাকায় এ নির্বাচনের প্রচার ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ।
তবে শেষ মুহূর্তে কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার ছিল চোখের পড়ার মতো। ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ ছাড়া এ সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদের উপনির্বাচনে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮টি। এ সিটিতে ভোট কেন্দ্র এক হাজার ২৯৫টি ও ভোটকক্ষ ছয় হাজার ৪৮২টি। ভোটার সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩০ জন ও নারী ১৪ লাখ ৭২ হাজার ৯১ জন। উত্তরে নতুন করে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটার ৫ লাখ ৯০ হাজার ৭০৫ জন।
অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ডে ১৮টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ছয়টি। এসব ওয়ার্ডে ভোটার চার লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৫ জন; পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৯৭ জন ও নারী দুই লাখ ৪২ হাজার ২৩৮ জন। ভোট কেন্দ্র ২৩৫টি ও ভোটকক্ষ এক হাজার ২৫২।