তাসলিমা সুুলতানা: আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রী পাস সার্টিফিকেট কোর্সে শিক্ষার্থীরা সেশনজট নিরসনের দাবীতে মানববন্ধন করেন।
২০১২-১৩ বর্ষের ডিগ্রী পাস কোর্স সার্টিফিকেট ব্যাচের ফাইনাল পরীক্ষা ২০১৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা একই বছরের আগস্ট পর্যন্ত চলতে থাকে। এ সময়ের মধ্যে সকল বিভাগের ৩-৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ের মধ্যে নতুন পরীক্ষা কর্মসূচি তথা রুটিন ঘোষণা করা হয়।
নতুন রুটিন অনুযায়ী ১৯শে আগস্ট থেকে ২৯শে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত পরীক্ষা কর্মসূচি বন্যা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হয় করা হয়। নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী পরীক্ষা পুনরায় ৯ই সেপ্টেম্বর থেকে ৭ই অক্টোবর শেষ হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে পরীক্ষা ফল প্রকাশের সময়সীমা ৬০দিন তথা ২মাস। সেই তথ্য মতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রী পাস সার্টিফিকেট ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রকাশ নির্ধারণ ছিল। কিন্ত তা আরও অনেক প্রতীক্ষার পর অবশেষে ২ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮তে প্রকাশ হয়। বিড়ম্বনার পরবর্তী ধাপস্বরূপ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল প্রকাশের ১৫দিনের মধ্যে পরবর্তী কোর্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ঘোষণার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২মাস ৬দিন অতিবাহিত হলেও মাস্টার্সে ভর্তির কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে মানববন্ধনের অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের পরবর্তী অনার্স ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হলেও উক্ত ব্যাচের মাষ্টার্সে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ১৩দিনের মধ্যে ঘোষিত হয়। এদিকে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ডিগ্রী পাস সার্টিফিকেটের শিক্ষার্থীরা এক দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়ে যায়। অনেক তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হতাশ এবং অনিশ্চিতর আশঙ্কায় নিম্মজিত হয়ে পড়েন।
এমতাবস্থায়, উক্ত সেশনের সাথে পরবর্তী ব্যাচের মাষ্টার্সে ভর্তি কার্যক্রম একই সাথে সম্পন্ন হলে তা একটি সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির তৈরি করবে।চাকরী আবেদনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তা বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
মানববন্ধনের সভাপতি মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, তাদের দাবীগুলো অতিসত্বর মেনে না নেওয়া হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।
সার্বিক সহযোগীতা ও তদারকির দায়িত্ব পালন করা মোঃ তারেক হোসেন আরও জানান, ২০১৩ সালের সিলেবাস পরবর্তীতে হঠাৎ করে পরিবর্তন হওয়ায় তাদের এই ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এছাড়াও এ সমস্যার প্রকটতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সার্বিক সহযোগীতার দায়িত্বে থাকা তৌহিদুল ইসলাম ও সোনিয়া আকতার এবং সাইফুল ইসলাম।
সূত্রে আরও জানা যায়, এ শিক্ষার্থীগণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক শাখায় (খুলশি) অভিযোগ তুলে ধরলেও তাতে কোন আশানুরূপ প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তাদের উত্থাপিত দাবীগুলো:
১.অবিলম্বে ২০১৫ সালের ডিগ্রী পাস (পুরাতন সিলেবাসের) উত্তীর্ণদের মাষ্টার্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক।
২.পুরাতন সিলেবাসে পাশ করা তাদের মাষ্টার্স কোর্স আলাদাভাবে শেষ করতে হবে অথবা অনার্স ২০১৩-১৪ সেশনের সাথে তারা মাষ্টার্স প্রিলি বা শেষ পর্ব কোনটাই করবেনা।
৩.দীর্ঘ সেনশনজটের কারণে এ বছর মেয়াদী পাস কোর্স শেষ করতে ২বছর নষ্ট হওয়ায় মাষ্টার্স কোর্স বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম করে ৬মাসের করে ১বছরের মধ্যে শেষ করা।