Monday, September 14

ডিজিটাল বাংলাদেশ মিথ্যা অপ্রচারের জন্য গড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

0

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ তিনি মিথ্যা অপ্রচারের জন্য গড়েননি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি সুশিক্ষার জন্য। অশ্লীল কথা, মিথ্যা কথা, গুজব- এসবের জন্য না। কাজেই এর থেকে বিরত থাকতে হবে।“

আজ রোববার ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিমান বন্দর সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকার প্রধানের এ আহ্বান আসে।
ঢাকার কুর্মিটোলার এই কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহতের ঘটনায় টানা এক সপ্তাহ বিক্ষোভ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

আন্ডারপাস নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের সামনে রেখে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা গুজবে কান দিবেন না। আমরা বাঙালিরা একটু হুজুগে মাতি। একটা কথা বলব… সোশাল মিডিয়া। ডিজিটাল বাংলাদেশতো আমি করে দিয়েছি। সকলের হাতে এখন মোবাইল ফোন। আধুনিক প্রযুক্তি ফোর-জি এসে গেছে। একটা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফেইসবুক করা যায়, ইউটিউব দেখা যায়, সেটা আমরা করে দিয়েছি। “এই যে প্রযুক্তির ব্যবহার, এর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে, গুজব ছড়িয়ে, একটা অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা; এমনকি অনেক বয়স্ক লোক, এমন এমন লোক আছে- যাদের ভালো কাজের জন্য এক সময় পুরস্কার দিয়েছি, অথচ তারাই যখন এ ধরনের গুজব ছড়াতে শুরু করল। আর যাই হোক, এগুলোতো কখনো সহ্য করা যায় না। কেউ চট করে গুজবে কান দিবেন না।”

রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো দিনই ক্ষমা করা যায় না, এটা ক্ষমার অযোগ্য। কারণ ওই বাস ড্রাইভার যেভাবে নিয়ম ভঙ্গ করে গাড়িটা চালাচ্ছিল, ছেলে-মেয়েদের উপর দিয়ে চলে গেল। অনেক ছেলে-মেয়ে আজ আহত। “এদেরকে আমরা কখনোই ক্ষমা করব না। এই দুর্ঘটনায় যারা জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তি অবশ্যই হবে, আমরা তা দেব।”

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কের এমইএস এলাকায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। তারপর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা; সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। তাদের অন্যতম দাবি ছিল সড়কে মৃত্যুর জন্য দায়ী বেপরোয়া চালকদের মৃত্যুদণ্ডের আইন করা।

শেখ হাসিনা বলেন, ওই আন্দোলনের মুখে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সড়ক নিরাপত্তা আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেছে, সেখানে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে যেভাবে চোখে আঙুল দিয়ে অনেক অনিয়ম দেখিয়ে দিয়েছে, অনুষ্ঠানে তাদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যারা গুজবে কান দিয়ে অস্থিরতা বাড়িয়েছে, তাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একেকটি ঘটনা মানুষের চোখ খুলে দেয়। তারপরও দেখছি, আমাদের কিছু এখনো অন্ধ। আমরা সরকারে ফিরে দেখেছি, বিআরটিসি বাস বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ছিল, আমরা চালু রেখেছি। “ড্রাইভারদের ট্রেইনিংয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনক, ড্রাইভাররা ট্রেইনিংও করে না, হেলপারের উপরে গাড়ি ছেড়ে দেয়।”

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তৃতীয়পক্ষ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “ঘটনা ঘটার পর যেভাবে শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছিল, তারা যে প্রতিবাদ করেছে… সাথে সাথে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, সবাইকে বলেছি ধৈর্য্য ধরতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী “মার খেয়েছে, অপমাণিত হয়েছে, তাদের মোটরসাইকেল পোড়ানো হয়েছে”, কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মুখের দিকে তাকিয়ে কেউ কিছু করেনি। “কিন্তু দেখা গেল- এরা ছাত্র না, ছাত্র নামধারী কিছু লোক। ওই যে দর্জির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রচুর পরিমাণে স্কুল ড্রেস তৈরি হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীসহ সবাইকে রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “রাস্তা পারাপার করার জন্য ডানে বা বামে তাকাতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার জন্য যেসব জায়গা আছে- আন্ডারপাস, ওভারব্রিজ কিংবা যেখানে জেব্রা ক্রসিং সেখান দিয়ে রাস্তা পার হতে হবে।”

“ছোট্ট সোনামণিদের বলব, ট্রাফিক রুলস মেনে চলতে হবে, মন দিয়ে পড়ালেখা করতে হবে। এত কষ্ট করছি, তোমাদের ভবিষ্যত নির্মাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.