Wednesday, September 23

ড্রিমলাইনার আকাশবীণার উড্ডয়ন ৫ সেপ্টেম্বর

0

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ আকাশবীণার উড্ডয়ন আজও হচ্ছে না। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নির্ধারিত গন্তব্যে রওনা দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এই উড়োজাহাজ। ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর যাওয়ার সময় নির্ধারণ ছিল আকাশবীণা ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের।

গত ১৯ আগস্ট বিকালে ঢাকায় এসে পৌঁছায় আমেরিকার বোয়িং কোম্পানির তৈরি বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পেনফিল্ড থেকে যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে আকাশবীণা।

বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও তিনটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানবহরে যোগ হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয়টি আসবে নভেম্বরে। অন্য দুটি ড্রিমলাইনার আসবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে।

গত বুধবার দুপুরে ড্রিমলাইনারের প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইট ঢাকা থেকে কলকাতায় যায়। এতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মকর্তাসহ ২৯ জন আরোহী ছিলেন। ওই দিন বিকেল পৌনে পাঁচটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরে আসে ড্রিমলাইনার।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। আপাতত ড্রিমলাইনার দিয়ে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। কর ও চার্জ ছাড়া ঢাকা-সিঙ্গাপুর-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ২০০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া ২৯০ মার্কিন ডলার।

ফ্লাইট উড্ডয়নের পরে বিজনেস ক্লাসে কোনো আসন ফাঁকা থাকলে ইকোনমি ক্লাসের যাত্রীরা সেটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এজন্য উড়ন্ত অবস্থায় নিলামে অংশ নিতে হবে তাদের। সর্বোচ্চ দরদাতা টাকা পরিশোধ করে বিজনেস ক্লাসের আসনে স্থানান্তরের সুবিধা পেয়ে যাবেন।

ড্রিমলাইনারের ইন ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) সেবা দিতে প্যানাসনিক এভিওনিকস কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান। প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিকের এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। মনিটরে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল দেখা যাবে।

একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র।
এছাড়া রয়েছে বিমানের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত ভিডিও গেমস। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা।

ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এরপরও কোনো যাত্রীকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে চার্জ দিতে হবে।
১০০ মেগাবাইটের জন্য ৮ ডলার, ৩০০ মেগাবাইটে ১৬ ডলার আর ৬০০ মেগাবাইটের জন্য ৩২ ডলার চার্জ দিতে হবে।

এছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময় কল করতে পারবেন যাত্রীরা। এজন্য ২৫টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে করা হয়েছে চুক্তি।

বিমানটি যে স্থানের উপর দিয়েই যাবে, যাত্রীদের সামনে তখন স্ক্রিনে দেখা যাবে থ্রিডি ম্যাপ। একই সঙ্গে উঠে আসবে সেই স্থানের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.