
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত অংশের নবগঠিত ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ উপলক্ষে দুই সিটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে শেষদিনের প্রচার চালিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলামসহ অন্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ভোট দেওয়া ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।
তবে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দিন কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকলে পরীক্ষাকেন্দ্র ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ পদে আওয়ামী লীগসহ চারটি রাজনৈতিক দলের চারজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
এ কারণে নির্বাচনী প্রচার ছিল অনেকটাই নিরুত্তাপ। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার ছিল চোখের পড়ার মতো। ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১১৬ জন এবং সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়া ২১ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১৮টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৫ জন ও সংরক্ষিত ছয়টি ওয়ার্ডে ২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।
উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা ও ইসির যুগ্মসচিব মো. আবুল কাসেম জানান, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভোটের ৩২ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে প্রচার বন্ধ। বুধবার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো ভোট কেন্দ্রে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হলেই সে কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে।
কর্মকর্তা আরও জানান, ইসির অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
কতিপয় জরুরি কাজ যেমন- অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য যানবাহন চলাচলও এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।