ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই হাটুভাঙ্গা এলাকায় অসমাপ্ত আন্ডারপাসের দুই পাশে যানজট ভয়াবহ আকার ধারন করছে। গত তিন দিন ধরে চলছে এই অবস্থা। শনিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৫০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজটে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। টয়লেট, খাবার ও পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন অনেক যাত্রী। যানজটের কারণে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল আসতে দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে ১০-১৫ ঘণ্টা সময় পার হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ যানজট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, মহাসড়কে যানজট নিরসনে ও নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের সাত শতাধিক সদস্য কাজ করছে।
গত বুধবার থেকে এ রোডে যানজট থাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় নির্মানাধীন আন্ডার পাস(অভার ব্রিজ) এলাকার দুই পাশে তীব্র যানজট। মহাসড়কের চন্দ্রা, বাইপাইল ও শফিপুরের চলছে অসহনীয় যানজট বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। আজ শনিবার গোড়াই হাইওয়ে থানা ও মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে এই মহাসড়ক দিয়ে টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর জেলার যানবাহন ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলার অন্তত ৫০ টি রোডের যানবাহন চলাচল করছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচলে সাত শতাধিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন বঙ্গবন্ধুসেতু এলাকায় দুইলেনে প্রবেশ করায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপে মাঝে মধ্যেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া, বঙ্গবন্ধুসেতু টোল প্লাজায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে টোল আদায় করতে সময় লাগায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৬-৭ ঘণ্টা।
হাইওয়ে পুলিশের এক সার্জেন্ট জানান, এলেঙ্গা থেকে মির্জাপুর পর্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করছে।
টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ (মির্জাপুর সার্কেল) দিপংকর ঘোষ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার মহোদয় ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন নিরলস ভাবে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ তৎপরতা ঈদের পরের দিন পর্যন্ত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।