ভোরের আলো ফুটতে ফুটতেই মৃদু ও মাঝারী তাপদাহে পুড়ছে মানুষ। সূর্য ডোবার পরও তাপমাত্রা কমছে না। শীতল হচ্ছে না চারপাশ। ফলে অসহনীয় গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। আজ শনিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে আজ (শনিবার) বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে তাপদাহ কমে আসবে। এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া আজ চট্টগ্রামে ৩৬.১ ডিগ্রি, সিলেটে ৩৪.৪ ডিগ্রি, ময়মানসিংহে ৩৩.৮ ডিগ্রি, রাজশাহীতে ৪১.৫ ডিগ্রি, রংপুরে ৩৪ ডিগ্রি, খুলনায় ৪১.৪ ডিগ্রি, বরিশাল ৩৬.৬ ডিগ্রি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ দেখছি। নিম্নচাপটি সমুদ্র উপকূল থেকে দুই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমূদ্র বন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ জন্য চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দর এবং কক্সবাজারকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাছ ধরার নৌকাসহ নৌযানগুলোকে সাগরে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে উপকূলে একটি নিম্মচাপ অবস্থান করছে। ফলে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং কুমিল্লা অঞ্চলসহ খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কিছু কিছু এলাকায় শিলা বৃষ্টিও হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, মাদারীপুর, রাঙামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট ও পটুয়াখালী অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে চলা মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে। যার ফলে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা হ্রাস পাবে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, এদিকে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। নিম্নচাপটি শনি অথবা রোববারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ফণি’।
৩০ এপ্রিল নাগাদ এটি দেশটির উত্তর তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল থেকে ওই দুই রাজ্যে প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো বাতাস বয়ে যেতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হবে ‘ফণী’। এটি বাংলাদেশের দেওয়া নাম। গত বছর সাতটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছিল বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে।