Tuesday, September 22

চট্টগ্রামের বায়েজীদে
তারা গেইট এলাকায় রাস্তার দুপাশের জায়গা উচ্ছেদ ও দখল নিয়ে উত্তেজনা, জনমনে প্রশ্ন মালিকানা কার

0

কাজী মাহদী হাছানঃ নগরীর বায়েজীদ থানাধীন তারা গেইট রাস্তার মোড় থেকে ব্যাটালিয়ান মোড় পর্যন্ত রোডটি দিয়ে কয়েকটি গার্মেন্টস, বিভিন্ন প্রতিষ্টানের শ্রমিক সহ শেরশাহ-বায়েজীদ এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। তাই এই রোডটি জনগুরুত্বপূর্ন একটি সড়ক। চসিক কর্তৃক রাস্তার দুপাশের অবৈধ দোকান পাট উচ্ছেদ, শোভা বর্ধন ফুল বাগান প্রকল্পের জন্য আরএসআরএমকে বরাদ্ধ দেয়া, তাদের দখলের পর তা ভেঙ্গে স্থানীয় লোক কর্তৃক পুনরায় দখল করে দোকানঘর নির্মান করায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে, এই জনগুরুত্বপূর্ন রাস্তার দুপাশের খালি জায়গাগুলোর মালিকানা মূলত কার? চসিক, রতনপুর ষ্টিল মিল নাকি পাবলিকের?
চসিকের সূত্র মতে, জায়গাটির মালিকানা সিটি কর্পোরেশনের তাই গত ০১/১১/২০১৭ইং তারিখে মাননীয় ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে উক্ত রাস্তার উভয় পার্শ্বে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। পরবর্তীতে রতনপুর ষ্টীল রি- রোলিং মিলস লিমিটেডের আবেদনক্রমে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হইতে সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানকে শোভা বর্ধন ফুল বাগান প্রকল্প করার জন্য গত ০১/০২/২০১৮ইং তারিখে ৮টি শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেন। সেইসাথে তাদেরকে উক্ত জায়গাটি চসিকের পক্ষ থেকে বুঝিয়ে দেন। অনুমতি পত্র প্রাপ্তির পর জায়গা বুঝে নিয়ে আরএসআরএমের পক্ষ হইতে জায়গাটি নিজেদের দখলে লোহার এঙ্গেল দিয়ে ঘিরে রাখেন।
আরএসআরএমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫/০৫/২০১৮ইং এবং ২৬/০৮/২০১৮ইং তারিখে গভীর রাতে বা রাতের অন্ধকারে অভিযোগে উল্লেখিত স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসীরা লোহার এঙ্গেল ভেঙ্গে আরএসআরএমের দখলকৃত জায়গাটি তাদের দখলে নেয় এবং রাস্তার উভয় পাশে কতগুলো দোকান ঘর নির্মান করে। এতে গত ২৮/০৫/২০১৮ইং তারিখে আর এস আর এমের পক্ষ হইতে মোঃ মোস্তফা কামাল সহ মহাব্যবস্থাপক(মানব সম্পদ ও প্রশাসন) কর্র্তৃক পুনরায় জায়গাটি থেকে অবৈধভাবে নির্মিত দোকানঘর উচ্ছেদের আবেদন করিলে গত ২০/০৬/২০১৮ ইং তারিখে ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করতে আসলে কোর্টের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে আর উচ্ছেদ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস মুঠোফোনে বলেন, এই জায়গাটি চসিকের জায়গা। আমি গত০১/১১/২০১৭ইং তারিখে উচ্ছেদ করেছি। এই জায়গা নিয়ে একটি মামলা ছিল সেই মামলার রায় চসিকের পক্ষে ছিল। সেই আলোকে তারা গেইট মোড় থেকে ব্যাটালিয়ান মোড় পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা পুনরায় উচ্ছেদ করতে গেলে দখলকারীদের দেয়া কোর্টের একটা নিষেধাজ্ঞা পেয়েছি। যেখানে উভয়পক্ষকে স্থিত অবস্থা বজায়ে রাখতে বলা হয়েছে। এই জায়গা নিয়ে বর্তমান দখলকারীদের করা একটি মিস মামলা হয়েছে। নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ এখানে কোনরুপ কাজ করতে পারবে না।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর আলহাজ্ব শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, এই জায়গা নিয়ে মামলা ছিল, সেখানে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে রায় হয়েছে। পরবর্তীতে শুনেছি জায়গাটির মালিকানা নিয়ে আরেকটি মিস মামলা হয়েছে, যে মামলায় উভয় পক্ষের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এখন রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উভয়কেই স্থিত অবস্থা বজায় রাখার জন্য কোর্ট আদেশ দিয়েছে। কেউ এখানে কোনরুপ কাজ করতে পারবেনা।

আর এস আর এমের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মিযানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, রাস্তার পাশের জায়গা সাধারণত কর্পোরেশন ড্রেনেজ ও সোন্দর্য বর্ধনের জন্য করেন।যেটা আমরা ক্লীফটন থেকে তারা গেইট পর্যন্ত দেখেছি। কিন্তু তারা গেইট থেকে ব্যাটালিয়ান মোড় পর্যন্ত হলো বিপত্তি। রাস্তার পাশে শোভা বর্ধনের জন্য চসিক থেকে বরাদ্ধ পেয়েছি। এতে লাভবান হতো জনগণ। এখন যারা রাস্তার পাশের ড্রেনের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাান করছে তাতেতো ক্ষতি জনগনেরই হবে। বর্ষাকালে পানি যাবেনা, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

এ বিষয়ে আর এস আর এমের সহ মহা-ব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ ও প্রশাসন) মোস্তফা হাকিম বলেন, জনস্বার্থে শোভা বর্ধন ও ফুল বাগান করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আমাদেরকে রাস্তার দুপাশের জায়গাটি বরাদ্ধ দেয়। সিটি কর্পোরেশন ড্রেন ও রাস্তা সম্প্রসারনের কাজ করবে বলায় আমাদের নির্মান কাজ দেরীতে শুরু করতে হয় এই ফাকে এলাকার কতিপয় লোক রাজনৈতিক পরিচয়ে আমাদেরকে বরাদ্ধ দেয়া জায়গাটি দখল করে নেয়। আশা করি এই অবৈধ দখলদাররা উচ্ছেদ হবে। রাস্তার দুইপাশে শোভাবর্ধন ফুল বাগান করলে এলাকার জনগণের দৃষ্টি নান্দনিকতায় জীবনমান সুন্দর হবে।জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে।

দখল সংক্রান্ত এলাকার স্থানীয় একজনের কাছে জানা যায়, তারাগেইট থেকে ব্যাটালিয়ান মোড় পর্যন্ত জায়গাটি শাহ আলম নামে এক ব্যাক্তির অধীনে লীজ ছিল। এখন যারা রাস্তার পাশের জায়গা দখল করেছে তারা শাহআলমের উত্তরাধীকার। বর্তমানে জায়গার মালিকানা নিয়ে চসিকের সাথে মামলা এবং পাল্টা মামলা চলছে। চসিক কর্তৃক উচ্ছেদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আছে।

নিষেদাঙ্গা সত্বেও আপনারা কিভাবে কাজ করছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, চসিককে উচ্ছেদ করতে পারবেনা, কিন্তু আমাদের কাজে কোন বাধা নেই। আমরা কাজ করতে পারবো।
উচ্ছেদ আর দখলের মহড়ায় এই জায়গার মালিকানা নিয়ে এলাকার জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বিরাজ করছে আতংক।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.