Sunday, September 20

তাহিরপুরে চোরাই কয়লা, পাথর ও মাদকের বাণিজ্য জমজমাট

0

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে চোরাই কয়লা,পাথর ও ইয়াবার বাণিজ্য জমজমাট হয়ে উঠেছে। পাচাঁরকৃত অবৈধ মালামাল ও টাকা-পয়সার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে চোরাচালানীদের মধ্যে ইতিমধ্যে একাধিক বার হয়েছে সংঘর্ষ। আর চোরাই কয়লার গুহায় মাটি চাপা পড়ে এপর্যন্ত ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। তারপরও নেওয়া হয়নি আইনগত কোন ব্যবস্থা। কারণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে পাচাঁরকৃত এসব অবৈধ মালামাল হতে বিজিবি ও পুলিশের নামে প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদা।
আজ ৩১.১০.১৮ইং বুধবার ভোর ৫টায় অভিযান চালিয়ে ২০মে.টন চোরাই কয়লা বিজিবি আটক করলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি।
এব্যাপারে বিজিবি ও এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল মঙ্গলবার(৩০,১০,১৮)রাত ১টা হতে আজ ৩১.১০.১৮ইং বুধবার ভোর পর্যন্ত টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির পিছন দিয়ে ভারত থেকে ৫০মে.টন চোরাই কয়লা ও বিপুল পরিমান ইয়াবা পাঁচার করে অস্ত্র মামলার আসামী লেংড়া বাবুল ও ইসাক মিয়াগং। পরবর্তীতে বড়ছড়া শুল্কষ্টেশনের জাহের আলীর ডিপুতে ও বিন্দারবন্দ গ্রামের কাজল মিয়া, আবুশামার বাড়িতে নিয়ে পৃথক ভাবে কয়লা মজুত করে। এবং লাকমা গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী আশিকনুর, কামরুল মিয়া, রতন মিয়া, আব্দুল হাকিম ভান্ডারী, ইদ্রিস আলীসহ লেংড়া বাবুল ও ইসাক মিয়ার বাড়িতে ইয়াবা মজুত রেখে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করা হয়। এখবর পেয়ে টেকেরঘাট কোম্পানী কমান্ডার আনিসুল হক বিন্দারবন্দ গ্রামে অভিযান চালিয়ে ২০মে.টন চোরাই কয়লা আটক করেন। ১বস্তা চোরাই কয়লা পাচাঁরের জন্য টেকেরঘাট পুলিশ ফাঁড়ি এএসআই ইমামের নামে ৮০টাকা, ইয়াবা বিক্রির জন্য সাপ্তাহিক ১৫হাজার টাকা ও টেকেরঘাট বিজিবি ক্যাম্পের নামে একই হারে উৎকোচ নিচ্ছে লেংড়া বাবুল ও ইসাক মিয়া। এছাড়া টেকেরঘাট ও লাকমাছড়া দিয়ে ১ ট্রলি চুনাপাথর,বল্ডার পাথর পাচাঁরের জন্য ৫০০টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে তারা।
অন্যদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টায় মাদক ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী কালাম মিয়া, জানু মিয়া, আব্দুল আলী ভান্ডারী ও জিয়াউর রহমান জিয়া ১বস্তা কয়লা থেকে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার দিলোয়ারের নামে ৫০টাকা, হাবিলদার মশিউরের নামে ৩০টাকা, কয়লা চোরাচালান মামলার আসামী আব্দুর রাজ্জারের নামে ৫০ টাকা, টেকেরঘাটের এএসআই ইমামের নামে ৫০ টাকা চাঁদা নিয়ে লালঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ৭০মে.টন কয়লা ও ২ হাজার পিছ ইয়াবা পাচাঁর করে চোরাচালানী এহসান মিয়া, রুবেল মিয়া, খোকন মিয়া, রবি মিয়া, বাবুল মিয়া, আবুল মিয়া ও তানজু মিয়াগংকে দিয়ে। পরবর্তীতে কয়লা ও ইয়াবা নিয়ে মজুত করে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত দুধেরআউটা গ্রামের ইয়াবা সম্রাজ্ঞী আংগুরী বেগম, জিয়াউর রহমান জিয়া, নয়ন মিয়া, ধন মিয়ার বাড়িতে, লালঘাটে কালাম মিয়া ও জানু মিয়ার বাড়িতেসহ তেলিগাঁও, নতুন বাজারসহ নেত্রকোনা জেলার কমলাকান্দা উপজেলার ডেইট্টাখালী নামকস্থানে।
অপরদিকে চাঁনপুর সীমান্তের নয়াছড়া এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবাধে চুনাপাথর, কয়লা, মদ ও ইয়াবা পাঁচার করে লাউড়গড় বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত যাদুকাটা নদীতে নিয়ে ওপেন নৌকা বোঝাই করছে মাদক ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী আবু বক্কর, সম্রাট মিয়া, কাসেম মিয়া, লাল মিয়া, আবুল কালাম, নাজমুল মিয়াগং। এজন্য ১ট্রলি চুনাপাথর থেকে বিজিবি ক্যাম্প ও থানার নামে ৬০০টাকা, ১বস্তা কয়লা থেকে ১৫০টাকা, মাদক বিক্রি ও পাচাঁরের জন্য সপ্তাহিক ৫০হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছে আবু বক্কর ও সম্্রাট মিয়া।
এব্যাপারে অস্ত্র মামলার আসামী লাকমা গ্রামের লেংড়া বাবুল বলেন, পত্রিকায় লেখালেখি করে কিছুই হবেনা কারণ এএসআই ইমাম ভাই আমার সাথে আছেন।
মাদক ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী লালঘাট গ্রামের কালাম মিয়া বলেন, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করতে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ৮-১০টি মামলা হয়েছে কিন্তু কিছুই হয়নি, আপনি জানেনা আমার হাত কত লম্বা।
মাদক মামলার আসামী চাঁনপুরের চোরাচালানী আবু বক্কর বলেন, পত্রিকায় লেখালেখি করে আমাদের কাজ বন্ধ করা সম্ভব না,যত পারেন লেখেন।
টেকেরঘাট পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই ইমাম বলেন, আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি সীমান্ত চোরাচালান বন্ধ করার দায়িত্ব বিজিবি, পুলিশের না।
ব্যাপারে বালিয়াঘাট বিজিবি ক্যাম্পে হাবিলদার মশিউর বলেন, চোরাচালানের বিষয়ে আমার জানা নাই, এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।
সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের টেকেরঘাট কোম্পানীর কমান্ডার সুবেদার আনিসুল হক বলেন, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ করাসহ চোরাচালানীদের হাতেনাতে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.