Saturday, September 12

তীব্র গরমে দুর্বিষহ জনজীবন

0

কয়েকদিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। শুধু মানুষই নয়, গরমে হাসফাঁস প্রাণীকুলও। মেঘহীন আকাশে সূর্যের খরতাপ ছিল আরো বেশি অসহনীয়। ভাদ্রের তাল পাকা গরমের তেজ তেমন অনুভূত না হলেও আশ্বিনের সূর্যের কিরণ অধিকতর ঝাঁজালো। কয়েক দিনের বর্ষণহীন পরিবেশে হঠাৎ তাপমাত্রা চড়তে থাকে উপরের দিকে। গতকাল বুধবার সারা দিনই দেশের বেশির ভাগ স্থান ছিল মৃদু তাপ প্রবাহের আওতায়।

আবহাওয়া অফিস বলছে, মৌসুমী বায়ুর নিষ্ক্রিয়তার কারণে বৃষ্টি না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। আর বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাড়ছে অস্বস্তি।

সাগরের কাছাকাছি থাকায় যে চট্টগ্রাম বিভাগের অঞ্চলগুলো তুলনামূলক ঠাণ্ডা থাকলেও গতকাল এই চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। সাগরের কাছাকাছি বরিশাল ও খুলনা বিভাগের তাপমাত্রাও কম ছিল না। এমনকি মধ্যবর্তী অঞ্চল ঢাকা বিভাগের বেশির ভাগ স্থানও ছিল তাপ প্রবাহের কবলে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ভোলায় ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা বিভাগের ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগের বেশির ভাগ স্থানের তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। খুলনা বিভাগের অবস্থাও একই রকম।

কষ্ট বেড়েছে শ্রমজীবী মানুষদের।
গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এর মধ্যে বেড়েছে লোডশেডিংশের মাত্রাও। দিন ও রাতে বেশ কয়েকবার থাকছে না বিদ্যুৎ। সৃষ্টি হচ্ছে পানির সঙ্কট। বিদ্যুৎ সঙ্কট থাকায় পানির মেশিন বন্ধ থাকছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। আবার ওয়াসার পাম্প বিকল্প ব্যবস্থায় সচল থাকলেও অ্যাপার্টমেন্টের রিজার্ভ ট্যাংক থেকে ছাদে রক্ষিত ট্যাংকে পানি তুলতে পারছে না। ফলে খাবার পানি, গোসলের পানি এমনকি বাথরুমেও থাকছে না পানি।

আবহাওয়া অফিস বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমী বায়ুর নিস্ক্রিয়তা, বৃষ্টিপাত না হওয়া আর আর বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমান বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
তবে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বেশকিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ।
আবহাওয়া অফিস বলছে, গতকাল ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মাইজদিকোর্ট, ফেনী, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রায় একটি বিশেষ মাত্রা পরিলক্ষিত হয়। রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা লি ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনি¤œ তাপমাত্রার দিক থেকে গতকাল রাজধানীতে ছিল সবচেয়ে বেশি। সাধারণত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য কম হলে গরমের মাত্রা বেড়ে যায়। এ ছাড়া রাজধানী সবুজ ও জলাভূমি কম থাকায় এখানে গরমের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও অনুভূত হয়েছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।
‘হঠাৎ করে কেন তাপমাত্রা বেড়ে তাপপ্রবাহের কবলে পড়ল দেশের বেশির ভাগ স্থান’ এমন প্রশ্নের জবাবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ ছিল। গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে লঘুচাপটি শক্তিশালী হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। আজ হয়তো তাতে আরেকটু পরিবর্তন হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই লঘুচাপ চলাকালীন দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। কারণ এ সময় আকাশে মেঘ থাকে না। আবার অনেক সময় মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হয় না। ফলে তাপমাত্রা বাড়তে বাড়তে তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.