মোঃ হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার পর বিগত ৪৬ বছরের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদীর ডান তীর তারাপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া গ্রাম হতে বামতীর কামারজানি বন্দরের সুইচ গেইট পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটারের মধ্যে নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়েছ মাত্র ৪৯৫ মিটার। এছাড়া গাইবান্ধার জেলার তিনটি উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর ৭৮ কিলোমিটার তীরের মধ্যে স্থায়ীভাবে সিসি বøক দ্বারা সংরক্ষণ করা হয় সাড়ে ৯ কিলোমিটার এলাকা। তিনটি নদীর তীর সংরক্ষণে সবচেয়ে কম কাজ হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। নদীর তীর সংরক্ষণ না করায় প্রতি বছর হাজারও পরিবার নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। নদীভাঙ্গনরোধে স্থায়ীভাবে আরও নদীর তীর সংরক্ষণের দাবিতে বেশ কয়েকবার মানববন্ধন করেছে নদীপাড়ের মানুষজন।
নদীভাঙ্গন ঠেকাতে বিগত ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের কোন কাজ করা হয়নি। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার এলাকায় নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম কাজ হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় আর বেশি কাজ হয়েছে সাঘাটা উপজেলায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-২০০৩ সাল পর্যন্ত পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার এলাকায় ৩০০ মিটার, ১৯৯৯-২০০৫ সাল পর্যন্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা বাজার রক্ষায় ৪৯৫ মিটার, ২০০৩-২০০৯ সাল পর্যন্ত পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার এলাকায় ১০০০ মিটার ও সদর উপজেলার কামারজানী বাজার এলাকায় ১০৪৩ মিটার, ২০০৫-২০১০ সাল পর্যন্ত সদর উপজেলার বাগুড়িয়া এবং ফুলছড়ি উপজেলার সৈয়দপুর, কি পাড়া ও বালাসীঘাট এলাকায় ১৮৭২ মিটার, ২০১০-২০১৬ পর্যন্ত সাঘাটা বাজার এলাকার ৪৭৮৯ মিটারসহ মোট সাড়ে ৯ কিলোমিটার এলাকা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

ভাঙ্গনরোধে সদর উপজেলার গোঘাট, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর, ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া, সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, গোবিন্দিসহ ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা ও যমুনা নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ হয়েছে প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায়। বর্তমানে ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট এলাকায় ১৩০০ মিটার, রতনপুর-সিংড়িয়া-কাতলামারী এলাকায় ২২০০ মিটার ও পুরাতন ফুলছড়ি হেডকোয়ার্টার গণকবর এলাকায় ৭০০ মিটার এবং সদর উপজেলার বাগুড়িয়া এলাকায় ৩০০ মিটারসহ মোট সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলাবেষ্টিত ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর তীর প্রায় ৫৪৬ বর্গ কিলোমিটার এলাকা ভেঙ্গে গেছে। পাশাপাশি নদীভাঙ্গনের শিকার হয়েছে কমপক্ষে চার লাখ মানুষ। ৪৬ বছরে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার এলাকা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীর তীর সাড়ে ৯ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা আছে। এ বছর আরও সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ীভাবে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।