তুরস্কে আর থাকছে না প্রধানমন্ত্রী পদ, প্রেসিডেন্টের হাতে যাচ্ছে আরও ক্ষমতা। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রি জারি করেছে তুরস্কের সরকার। এ ডিক্রি জারি হওয়ার ফলে তুরস্কে ১৯২৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চলা নীতি বাতিল হবে। খবর রয়টার্সের।
গত ২৪ জুন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং তার দল একে পার্টি। এর আগে গত বছর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুষ্ঠিত এক গণভোটেও জয়ী হন এরদোয়ান। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় পার্লামেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু নতুন ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টই হবেন সর্বময় ক্ষমতার মালিক।
২০১৪ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ ১১ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট নিয়ে তিনি পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। নির্বাচনটি অনেক দিক দিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে তুরস্কে সংসদীয় শাসন পদ্ধতি থেকে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার পদ্ধতি প্রবর্তনের পর এটিই প্রথম কোনো নির্বাচন। ২০১৭ সালে এক গণভোটের মধ্যদিয়ে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার পদ্ধতির পক্ষে রায় দেয় দেশটির জনগণ।
আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আঙ্কারায় রাজপ্রাসাদে স্থানীয় সময় বিকাল ৪ টায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, সোমবার পার্লামেন্টেই শপথ নেবেন এরদোগান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় শপথ নেবেন তিনি।
এর দুই ঘণ্টা পর ক্ষমতা গ্রহণ উপলক্ষে আঙ্কারায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হবে বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন দেশের নানা জ্ঞানী-গুণী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। প্রেসিডেন্ট আয়োজিত এক নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের ইতি ঘটবে। তার আগে নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেবে এরদোগন।
শপথ নেয়ার আগেই বুধবার এরদোগানকে আরও ক্ষমতা দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করা হয়েছে। এ ডিক্রির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বন্ধ করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরকে প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের অধীনে আনা হয়েছে।
ডিক্রি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদটি বিলুপ্ত হবে। প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং তিনিই সভাপতিত্ব করবেন। তিনি পার্লামেন্টের অনুমতি ছাড়াই মন্ত্রীদের নির্বাচন করা কিংবা ক্ষমতাচ্যুত করা, সরকারি চাকরিতে বেসামরিক নাগরিকদের বাদ দেয়ারও ক্ষমতা পাবেন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে গতকাল বিকেলে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ান ৫৩ ভাগ ভোট পেয়েছেন। পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল একে পার্টি ৪৩ ভাগ ভোট পেয়েছে। একে পার্টির সঙ্গী এমএইচপি পেয়েছে ১১ ভাগ ভোট। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ নেয়ার বিধান রয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর এরদোয়ান নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।