Friday, September 11

খাশোগি নিখোঁজ
তুর্কি-সৌদির তদন্ত হলো পর্দা, এর পেছনে চলছে দরকষাকষি

0

সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজ ইস্যুতে গঠিত তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ তদন্ত কমিটি হলো একটা পর্দা। আর এই পর্দার পেছনে রাজনৈতিক লেনদেন নিয়ে দরকষাকষি করছে উভয় দেশ।
বৃহস্পতিবার আল জাজিরা’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক তুর্কি বিশেষজ্ঞ ফুলিয়া আটাকানের বরাত দিয়ে একথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে উভয় দেশই জানে যে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানের আগেই তারা নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।

আটাকান এই যৌথ তদন্ত কমিটিকে ‘দরকষাকষির মাধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সারা বিশ্বের মানুষকে কী জানানো হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে পরামর্শ করতে সবচেয়ে ভালো সমাধান এটি। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে উভয় দেশের একটা সমস্যা আছে। সেটি হলো তারা জানে না কিভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই যৌথ তদন্ত কমিটির অজুহাতে তারা একে অন্যকে দোষারোপ এবং একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়ার আগে আলোচনার যথেষ্ট সময় পাবে।

তুর্কি লেখক ও সাংবাদিক মুস্তফা আকিয়োল বলেন, এই যৌথ তদন্ত হলো একটা ‘ফরমালিটি’। আর নিজেদের সুনাম প্রদর্শনের জন্য এটি পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্ক। কিন্তু উভয় দেশই একটা ব্যাপারে নিশ্চিত যে খাশোগিকে প্রথমে আটক করা হয় এবং পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি বিশেষ দল তাকে হত্যা করে।

এদিকে তুর্কি ফরেনসিক দল এদিন ভোরে ইস্তানবুলে সৌদি দূতাবাস এবং সেখান থেকে কয়েক মিটার দূরে সৌদি রাষ্ট্রদূত জেনারেল মোহাম্মদ আল-ওতায়বির বাসভবনে নয় ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষ করে।
অনুসন্ধানে সৌদি দূতাবাসে খাশোগি খুন হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তুর্কি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। তদন্ত প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে, তা জানানো হয়নি। তবে এই সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কিছু গণমাধ্যম।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর সৌদি দূতাবাসে প্রবেশ করেন জামাল খাশোগি। এরপর তুর্কি কর্মকর্তারা এবং খাশোগির পরিবার জানায়, সেখান থেকে আর বের হননি তিনি। এই ঘটনায় তুরস্কের অভিযোগ, খাশোগিকে হত্যা করে সৌদি এজেন্টরা। আর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে সৌদি সরকার।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.