থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে থাকা সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবর নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ডের নেভি সিলের টিম। খবর বিবিসির।
রোববার ও সোমবার চারজন করে মোট আট জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, আর আজ বাকি পাঁচজনকেও বের করে এনেছেন উদ্ধারকারীরা।
এর আগে গুহার ভেতর আটকে থাকা ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে রোববার থেকে দেশ-বিদেশির প্রায় ৯০ জন উদ্ধারকারী অভিযান শুরু করে। অভিযানের প্রথমদিন রোববার চারজন কিশোরকে বের করে আনতে সক্ষম হয় উদ্ধারকারীরা। গতকাল সোমবারও চারজনকে বের করে আনা হয়। আর আজ অভিযানের তৃতীয়দিনে বাকি চার ফুটবলারসহ কোচকে বের করে আনা হয়। এরমধ্যে দিয়ে রুদ্ধশ্বাস এক অভিযানের সমাপ্তি ঘটলো।
থাই নৌবাহিনীর সীল দল – যারা এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন – তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ১২ জন কিশোর এবং তাদের ফুটবল কোচকে বের করে করে আনা হয়েছে, এক অসাধারণ উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে – যার দিকে পুরো বিশ্বের দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল।
ফেসবুকে এক পোস্টে দ্য সীল বলেছে – “ওয়াইল্ড বোর (বুনো শূকর) দলের ১২ জন এবং তাদের কোচ এখন গুহার বাইরে। সবাই সুস্থ।”
গত দু’দিনের মত আজও উদ্ধারকৃতদের সবাইকেই হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের সাথে গুহার ভেতরে অবস্থান করছিলেন একজন ডাক্তার এবং নৌবাহিনীর তিনজন ডুবুরি।
তারা আটকা পড়া শেষজনকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত গুহার ভেতরেই ছিলেন, এবং এখন তাদের বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন সবাই। তার পরই অভিযানটি সম্পূর্ণ সমাপ্ত হবে।
রোববার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় গুহার ভেতরে আটকা পড়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। ভারী বৃষ্টির পর গুহার ভেতর পানির উচ্চতা আরও বেড়ে যেতে পারে এমন আশংকায় রোববারই এই উদ্ধার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক অভিযান – যাতে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া সহ অনেকগুলো দেশের উদ্ধারকারী ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। দক্ষ ডুবুরিরা আটকে পড়া কিশোরদের ডুবে যাওয়া সুড়ঙ্গের পানির ভেতর দিয়ে পথ দেখিয়ে গুহার প্রবেশ মুখে নিয়ে আসেন।
প্রত্যেক কিশোরকে পুরো মুখ ঢাকা অক্সিজেন মুখোশ পরতে হয়। প্রতিজনের সামনে এবং পেছনে দুজন ডুবুরি ছিল গাইড হিসেবে। এরা তাদের এয়ার সিলিন্ডারও বহন করেন।
গুহার যে জায়গায় এই ছেলেরা আটকে পড়ে, সেখানে যাওয়া এবং সেখান থেকে আবার গুহামুখ পর্যন্ত ফিরে আসতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডুবুরিরও প্রায় এগারো ঘন্টা সময় লেগেছে।
সবচেয়ে কঠিন অংশটা মাঝামাঝি জায়গায়। এটিকে একটা টি-জাংশন বলে বর্ণনা করা হয়।
এই জায়গাটা এতটাই সরু যে সেখানে ডুবুরিদের তাদের এয়ার ট্যাংক খুলে ফেলতে হয়। এরপর ক্ষণিকের যাত্রাবিরতির জন্য গুহার মধ্যে একটা ক্যাম্প মতো করা হয়। সেখান থেকে বাকীটা পথ পায়ে হেঁটে তাদের গুহামুখে আসতে হয়।বেরিয়ে আসার পর তাদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, চিয়াং রাই প্রদেশের থ্যাম লুয়াং নামের ওই গুহাটিতে ১২ জন কিশোর এবং তাদের ফুটবল কোচ আটকা পড়ে গত ২৩শে জুন। তারা গুহায় প্রবেশ করার পর ভারী বর্ষণের কারণে আর বের হতে পারেনি।