Wednesday, September 16

দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

0

দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে নাজিব রাজাক এবং তার স্ত্রী রোজমা মানসুরের মালিকানাধীন বিভিন্ন বাড়ি থেকে প্রায় ২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ এবং হ্যান্ডব্যাগ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রায়াত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হচ্ছে। তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে চ্যানেল নিউজ এশিয়া জানিয়েছে, বুধবার সকালে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ওই মামলায় আদালতে হাজির করা হবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নাজিবই প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ওয়ানএমডিবি তহবিল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে ওই তহবিলের ৭০ কোটি ডলার আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নাজিবের বিরুদ্ধে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে ওই অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তবে নাজিব বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওয়ানএমডিবি নামের একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে এগুলো জব্দ করা হয়। জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৬ লাখ ডলার মূল্যের স্বর্ণ এবং হীরার নেকলেস, ১৪টি টায়রা, ১৪০০ নেকলেস, ৫৬৭ হ্যান্ডব্যাগ, ৪২৩টি ঘড়ি, ২২০০টি আংটি, ১৬০০ ব্রোচ এবং ২৩৪টি সানগ্লাস। পুলিশ বলছে, মালয়েশিয়ার ইতিহাসে একবারে এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সামগ্রী কখনো বাজেয়াপ্ত হয়নি।

মালয়েশিয়ার আদালত প্রধানমন্ত্রী নাজিবকে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছিল। কিন্তু গত মে মাসের নির্বাচনে সরকার বদলের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী মাহথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় এসে নতুন করে ওই দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা নাজিব রাজাকের বাসায় কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি মুদ্রা ও বিলাসপণ্য জব্দ করে।

মাহাথির এবং তার সরকারের ঊর্ধ্বতন নেতাদের বিশ্বাস, নাজিব রাজাক যে ওয়ানএমডিবি ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তার অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রসিকিউটররা বলছেন, ৭০ কোটি ডলার অর্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একাউন্টে জমা হয়েছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.