
অপরাধীদের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ না করতে পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীদের শাস্তি দেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনের করবী হলে সাংবাদিকদের অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ জন দুস্থ, অসহায়, অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত এবং প্রয়াত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যতা হ্রাস পেয়েছে, আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, এখন যে কেউ ইচ্ছে করলে কাজ করে খেতে পারে। এখন কারও বসে থাকার সুযোগ নেই। বিদ্যুতের ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নতিসহ সব দিকে থেকেই আমরা উন্নয়ন করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টি করা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অনেক সংবাদপত্র দিয়েছি, অনেক চ্যানেল আপনারা দেখেন। এসবের ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, সামাজিকভাবে বা সাংস্কৃতিকক্ষেত্রে বা আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন এবং মানুষের ভেতরে যে সুপ্ত প্রতিভাগুলো থাকে সেগুলো যেন বিকশিত হতে পারে। কিন্তু সব থেকে বড় কথা, কর্মসংস্থান বা কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া।
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, কেউ অপরাধ করলে আমি তাকে অপরাধী হিসেবেই দেখি। সে কোন দল করল আমার কাছে সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। সে আমার দলের হলে আমার দল নষ্ট হবে বা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে বিষয় নিয়ে আমি চিন্তা করি না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর জন্য আয়োজনকারী প্রথম আলোর দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘যারা অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তাদের একটা দায়িত্ব থাকে। রেসিডেন্সিয়ালে একটা ঘটনা ঘটলো। আয়োজকরা এটাকে এতটা নেগলেক্ট করেছে! বাচ্চাটা মারা গেছে, এরপরও ঘটনাটা চাপা দিয়ে অনুষ্ঠান চালিয়ে গেছে। ধানমন্ডিতে এতোগুলো হাসপাতাল, তবুও মহাখালীতে নিয়ে গেলো। প্রথম আলো এই ধরনের একটা ঘটনা কীভাবে ঘটায়? তাদের কোনও দায়বদ্ধতা নেই? ছোট ছোট বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করছে। তাদের নিরাপত্তা না দেখা এটাও তো গর্হিত অপরাধ। এটা তো বরদাশত করা যায় না।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জাবির ভিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে, অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে একই শাস্তি আন্দোলনকারীদের দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি দেখছি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদের এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, তাদের তথ্য দিতে হবে। তারা তথ্য দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। কিন্তু তারা তথ্য দিতে পারবে না দুর্নীতি দুর্নীতি বলে ক্লাসের সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দিবে না, ইউনিভার্সিটি চলতে দিবে না, অন্দোলনের নামে ভিসির বাড়ি আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ করবে। আমি বলবো এটার এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
তিনি বলেন, আমি মেট্রোরেল করব। এটা হবে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজস। এখানে কোনও চালক থাকবে না। এটা কম্পিউটারে চলবে। এটা চলার একটা হিসাব আছে। নির্দিষ্ট সময় স্টপেজে গিয়ে এটা থামবে। যেখানে সেখানে স্টেশন হতে পারবে না। যাদের সুবিধার জন্য এটা করা, তারাই গিয়ে সেগুলো ভাঙচুর করে রাখে। কিন্তু এটা তো হিসাব করেই প্লানটা করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গেলে কতগুলো বিষয়তো মানতেই হবে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে বাংলাদেশটাকে অনেকটা পেছনে টেনেই রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জাতীর পিতাকে হত্যার বিচার এ ধরনের কঠিন কঠিন কাজ করাও তো একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে করতে হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন এখন ২১ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা আশা করছি যে, ২০২১ সালের মধ্যে এটা আরও কমিয়ে নিয়ে আসবো। এভাবে আমরা দেশটাকে সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।