বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে যুক্ত হয়েছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্লেন ড্রিমলাইনার ‘হংসবলাকা’। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে বোয়িং ৭৮৭-৮ এই প্লেনটি।
যদিও এটি ওইদিন বিকেল ৪টায় দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা দেরিতে প্লেনটি দেশের মাটিতে নামে।
হংসবলাকার এই বিজি-২১১২ ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন চার পাইলট স্মল স্কি, মো. আমিনুল, শোয়েব চৌধুরী ও ফার্স্ট অফিসার আনিতা রহমান। বিরতিহীনভাবে ১৫ ঘণ্টা চালিয়ে এই ড্রিমলাইনার নিয়ে এসেছেন তারা। এছাড়া ফ্লাইট পার্সার শবনম কাদিরসহ এতে কেবিন ক্রু হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন পাঁচজন।
বিমানের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে এভারেট থেকে শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় উড্ডয়ন করে ‘হংসবলাকা’।
তার আগে লাল ফিতা কেটে নতুন ড্রিমলাইনারের যাত্রার উদ্বোধন হয়। এর মধ্য দিয়ে বিমানবহরে প্লেনের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টি।
জানা গেছে, ড্রিমলাইনার হংসবলাকা যাত্রা শুরুর আগেই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। এ কারণে ৭ ঘণ্টা বিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে ঢাকায় বিকালে পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাত ১২টা নাগাদ পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ শনিবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলন বলেন, হংসবলাকা বিমানে যুক্ত হবার ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও সেটি বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যে ৩২ জন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন তারাও বিব্রত হয়েছেন।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহম্মেদ আরও জানান, দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার পূর্বে পাইলট উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের রিডিং এ ভুল দেখতে পান। এ কারণে উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছে। ত্রুটি মেরামত শেষে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। আনুমানিক রাত ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার হংসবলাকা অবতরণ করবে।
ড্রিমলাইনারে ইন্টারনেট সুবিধা থাকায় বিমানে থাকা একজন ক্রু ইঞ্জিনের ত্রুটি ধরা পড়ার তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টায় বিমানের দ্বিতীয় ড্রিমলাইনার যুক্তরাস্ট্র ত্যাগ করার কথা ছিল। সব কিছু চূড়ান্ত হবার পর বিমানের ক্রু এবং বোয়িং এর পাইলট বিমানের ককপিটে উঠে বসেন। ঢাকা থেকে যারা গেছেন তারাও বিমানে আসন নেন। বিমানটি এয়ারফিল্ডে নেয়ার পর পাইলট জানতে পারেন উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের রিডিং এ ত্রুটি রযেছে। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি বোয়িং কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর বোয়িং এর প্রকৌশলীরা প্রায় ৫ ঘণ্টা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ইঞ্জিনের রিডিং ত্রুটি মেরামত করে ড্রিমলাইনারকে যাত্রার জন্য প্রস্তত করেন।
উল্লেখ্য, এই বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছলে দেশের বিমানবহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা হবে ১৫টি। এর আগে গত ১৯ আগস্ট প্রথম ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’ ঢাকায় আসে। আসন্ন দ্বিতীয় বিমানটির নাম দেয়া হয়েছে হংসবলাকা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এসব কথা বলা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে ড্রিমলাইনার আকাশে উড়বে। ওই দিন থেকে ২৭১ আসনের ড্রিমলাইনারে ঢাকা-লন্ডন রুটে সপ্তাহে ৬টি, ঢাকা-দাম্মাম রুটে সপ্তাহে ৪টি এবং ঢাকা-ব্যাংকক রুটে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
ড্রিমলাইনার ঘণ্টায় ৬৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম। উড়োজাহাজের শব্দ কমাতে ইঞ্জিনের সঙ্গে শেভরন প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। বিমানটি নিয়ন্ত্রিত হবে ইলেকট্রিক ফ্লাইট সিস্টেমে। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় বিমান ওজনে হালকা। ভূমি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দুটি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট। এর মোট ওজন ১ লাখ ১৭ হাজার ৬১৭ কিলোগ্রাম, যা ২৯টি হাতির সমান! এর ককপিট থেকে টেল (লেজ) পর্যন্ত ২৩ লাখ যন্ত্রাংশ রয়েছে।