ভূমধ্যসাগরের তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। আজ ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭১২ বিমানযোগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক।
লিবিয়ার ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানায়, লিবিয়া হয়ে দুটি নৌকায় ইতালি যেতে চেয়েছিলেন অভিবাসী প্রত্যাশীরা। একটি নৌকায় প্রায় ৫০ এবং অন্যটিতে ৭০ জন যাত্রী ছিল। ওই দুটি নৌকা গত ৯ মে রাতে একই সময়ে যাত্রা শুরু করে। তবে একটি নৌকা নিরাপদে ইতালি পৌঁছালেও অন্যটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ৬০ জন প্রাণ হারান।
তিউনিশিয়ায় রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা মঙ্গি স্লিম জানান, নৌকাটিতে প্রায় ৭৫ জন আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই পুরুষ। তাদের মধ্যে ৫১ জনই বাংলাদেশি। আর ডুবে যাওয়াদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্যে ১৪ জন বাংলাদেশি। মরদেহ উদ্ধার করা হয় তিনটি।
মঙ্গি স্লিম আরও জানান, গত ১২ মে সকালে সাগর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদেরকে জারযিজ শহরের তীরে নিয়ে আসেন তিউনিশিয়ার জেলেরা। এরপর তাদের জারযিজের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানান, ঠাণ্ডা সাগরের পানিতে তারা প্রায় আট ঘণ্টা ভেসে ছিলেন।
গত ১০ মে সংঘাতময় লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকাডুবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশি নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- নোয়াখালীর চাটখিলের নাসির, গাজীপুরের টঙ্গীর কামরান, শরীয়তপুরের পারভেজ, কামরুন আহমেদ, মাদারীপুরের সজীব, কিশোরগঞ্জের জালাল উদ্দিন ও আল-আমিন।
এছাড়াও সিলেটের জিল্লুর রহমান, লিমন আহমেদ, আবদুল আজিজ, আহমেদ, জিল্লুর, রফিক, রিপন, আয়াত, আমাজল, কাসিম আহমেদ, খোকন, রুবেল, মনির, বেলাল ও মারুফ। সুনামগঞ্জের মাহবুব, নাদিম ও মাহবুব এবং মৌলভীবাজারের শামিম, ফাহাদ ছাড়াও আরও অনেকে।