সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ আর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দীর্ঘ দুই মাসের সফর শেষে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ ফিরেছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার গৌরব নিয়ে। কিন্তু এ অর্জনের পরও বিমানবন্দরে ক্রিকেটারদের মুখে চওড়া হাসি দেখা গেল কমই। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে অ্যামিরাটস এয়ারলাইনেসের একটি বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে মাশরাফি বাহিনী।
তবে টাইগারদের বহন করা বিমানটি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় নামার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে অবতরণ করে।
ইংল্যান্ডের সাসেক্সে ক্যাম্প করতে গত ২৭ এপিল রাতে ঢাকা ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। সাসেক্সে নয়দিনের ক্যাম্প শেষে বাংলাদেশ উড়াল দেয় আয়ারল্যান্ডে। সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ২৫ মে ইংল্যান্ডে ফিরে বাংলাদেশ।
প্রস্তুতি পর্বে ২৭ মে পাকিস্তান ও ৩০ মে ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলে ১ জুন বাংলাদেশের স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু হয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩০৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করেও হেরে যায় টাইগাইররা। ৫ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচে বাংলাদেশ এক পয়েন্ট অর্জন করে। ৯ জুন কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের সেমিফাইনালের টিকেট।
কিন্তু সেমিফাইনালে চাপে থেকে ভারতের সঙ্গে ব্যাটিং-বোলিংয়ে সুবিধা করতে না পারায় তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি মাশরাফি বাহিনী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অভিজ্ঞতার কাছেই হেরেছে টাইগাররা। তবে সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাবে মাশরাফিদের জন্য এটি ছিল সফল এক টুর্নামেন্ট।
দলের সবাই অবশ্য একসঙ্গে দেশে ফেরেননি। কদিনের ছুটি কাটাতে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েস থেকে গেছেন ইংল্যান্ডে। বিকেলে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার কথা সাকিব আল হাসানের। তবে দলের সবাই আপাতত কদিন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকবেন। ঈদের পর শুরু হবে তাঁদের নতুন ব্যস্ততা আগস্টে দেশের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। নতুন চ্যালেঞ্জের হাতছানি সাকিব-তামিমদের সামনে ।