দোহাজারী সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তনে মানববন্ধন

0

মো. আয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশঃ দোহাজারী সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে দোহাজারী নাগরিক কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে দোহাজারী সদর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২মে (মঙ্গলবার) বিকালে নাগরিক কমিটির সহ-সভাপতি আকবর আলীর সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন- আ’লীগ নেতা যথাক্রমে আবদুর শুক্কুর, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বেগ, প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্ত্তী, কৃষকলীগ নেতা নবাব আলী, মুন্সি আবদুর রউফ সৌরভ, নুর হোসাইন, ফয়েজ আহমদ টিপু, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ভুট্টো, ব্যবসায়ী ও যুবলীগ নেতা লোকমান হাকিম, মনসুর আলী ফয়সাল, সাবেক মেম্বার যথাক্রমে জামাল উদ্দীন, শাহ আলম, জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন, মোহাম্মদ আলমগীর, মুহিম বাদশা, আবু তৈয়ব, জহির উদ্দীন বাবুল, সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক এম.এ রাজ্জাক, নাছির উদ্দীন বাবলু, বিএনপি নেতা আপিল উদ্দীন আহমদ, ওসমান আলী, শহিদুল ইসলাম, ইসমাইল, পারভেস, কায়েস, আমির হোসেন, ডা. নোমান রিজভী, কামরুল হাসান মিন্টু, হেলাল মাহমুদ, ইফরান আহমদ জাসু, মৌলানা তৌহিদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি নেতা বাদশা মিয়া প্রমুখ।
সমাবেশ চলাকালে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহা-সড়ক আধা ঘন্টাকাল ব্যাপী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে দোহাজারী সড়ক বিভাগের সামনে পুনরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সভায় বক্তাগণ বলেন- বিশেষ একটি মহলের ইন্দনে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন,
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী, পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ। জানা যায়, ১৯৯২ সালে দোহাজারী, কক্সবাজার, বান্দরবান পৃথক পৃথক সড়ক বিভাগ নামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে এই তিন সড়ক
বিভাগকে নিয়ে সাব-ডিভিশন অফিস চন্দনাইশ গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় করার লক্ষে জমি অধিগ্রহণ করে ভবন নির্মাণ করেন, যা এখনও দৃশ্যমান।
বর্তমান সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিগত দুই বছর পূর্বে একটি মহল দোহাজারী সড়ক বিভাগকে পটিয়া স্থানান্তরিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার বিষয়ে অবগত হয়ে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম
চৌধুরী ডিও লেটারের মাধ্যমে তা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহের নিজ বাড়ী পটিয়ায় হওয়ার কারণে তিনি এ প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থেকে সে প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহলটি তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ায় গত বছর ১০ মার্চ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের
উপসচিব মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নামকরণ বিষয়ে মতামত চেয়ে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মতামতসহ প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলীর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উল্লেখ করে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানান। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৭ এপ্রিল সড়ক
পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সওজ গেজেটেড সংস্থাপন শাখার উপসচিব মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ স্বাক্ষরিত গেজেট প্রকাশ করেন। গেজেটে চট্টগ্রাম সড়ক জোনের দোহাজারী সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ নামকরণ করা হয়।
গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দোহাজারীসহ চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী দোহাজারী একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা। এখানে এক সময় লবণ শিল্প, ১৯৩০ সালে দোহাজারী রেলস্টেশন তথা আখেরী স্টেশন প্রতিষ্টা, দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি ভান্ডার দোহাজারী, মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস বিজরিত দোহাজারী, মুগল আমলের ইতিহাস বিজরিত দোহাজারী থেকে সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তন কোনো ভাবেই মেনে নিবে না দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। বক্তারা আরো বলেন, ক্যাডার সার্ভিসে নিজ জেলায় চাকরি করার বিধান না থাকলেও দীর্ঘ ৪ বছর ধরে দোহাজারী সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পটিয়ার অধিবাসী প্রকৌশলী সুমন সিংহ। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, তিনি বিষয়টি জেনে মর্মাহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রীর সাথে কথা বলে এলাকাবাসীর দাবি তুলে ধরে প্রয়োজনে ডিও-লেটার দিয়ে পদক্ষেপ নিবেন বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেছেন, দক্ষিণ জেলা আ‘লীগের সভাপতি প্রয়াত মোসলেম উদ্দীন আহমদ এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ডিও লেটার দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ করার প্রস্তাব দেন। ফলে মন্ত্রনালয় এই সিন্ধান্ত গ্রহণ করে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা মন্ত্রনালয়ের অধীনে চাকরি করি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.