Tuesday, August 25

ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ভয়াবহ যুদ্ধ লেগে যেতে পারে

0

দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যা, মসজিদ ধ্বংস ও বাংলাদেশে নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে গতকাল বা’দ আসর হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের হাটহাজারী পৌরসভার উদ্যোগে এক বিক্ষুভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলা‌দেশ এর মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরীসের সভাপতিত্তে ও হাটহাজারী উপজেলার সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনিরের সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলাম সবসময় মানবা‌ধিকা‌রের কথা ব‌লে। শা‌ন্তি ও নিরাপত্তা প্র‌তিষ্ঠার কথা ব‌লে। অমুসলিম সম্প্রদা‌য়কে নিরাপত্তাদা‌নের কথা ব‌লে। আমা‌দের দে‌শের মুসলমানগণ বারবার তা প্রমাণ ক‌রে দে‌খি‌য়ে‌ছে। বাংলা‌দে‌শে সংখ্যালঘুরা সব‌চে‌য়ে বে‌শি সুযোগ-সু‌বিধা ভোগ ক‌রে বসবাস কর‌ছে। অথচ ভার‌তের সংখ্যালঘু মুস‌লিম সম্প্রদায় সবসময় সংখ্যাগ‌রিষ্ট হিন্দু সম্প্রদায় কর্তৃক নির্যা‌তিত নিপী‌ড়িত হ‌চ্ছে।

আজকে যে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন ভারত রাস্ট্র স্থান পেয়েছে। তা উলামায়ে দেওবন্দের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছে। বালাকোট আন্দোলন থেকে রেশমী রোমাল ও আজাদী আন্দোলন সবখানেই উলামায়ে কেরামের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

সেই মুসলিম রক্তে স্বাধীন হওয়া ভারতে আজ মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর যেভা‌বে জুলুম নির্যাতন চালা‌চ্ছে তা প‌রিস্কার রাষ্ট্রীয় নী‌তি ও মানবা‌ধিকার লঙ্ঘনের শা‌মিল। ভার‌তের উচিৎ হ‌বে নিজে‌দের দে‌শের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও নাগ‌রিক অধিকার নি‌য়ে কাজ করা।

সম্প্র‌তি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অসংখ্য মুসলমানকে শহীদ করা হ‌য়ে‌ছে। মুসলমান‌দের প‌বিত্র স্থান মস‌জি‌দে আগুন দেয়া হ‌য়ে‌ছে। খোঁজে খোঁজে মুসলিমদের বাড়িঘর, মাদরাসা ও দোকানপাটে অগ্ন‌িসং‌যোগ ও হামলা করা হ‌য়ে‌ছে। এরপরও মুসলমান প্রচণ্ড ধ‌ৈর্যধারণ কর‌ছে। ত‌বে একথা ভু‌লে গে‌লে চল‌বে না, মুসলমান ধৈর্যশীল ত‌বে ভীরু নয়।

তিনি আরো বলেন, মুসলমান ধৈর্যশীল ত‌বে ভীরু নয়। মুসলমানদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। আমারা বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে বলবো- এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হোন, রক্তাক্ত বিশ্বের চেহারা দেখার পূর্বেই মুসলিম নিধন বন্ধে এগিয়ে আসুন।

ভারতীয় এই গণহত্যা থামানোর জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রাষ্ট্রীয়ভাবে জোরালো দাবি তুলে ধরা বাংলাদেশ সরকারের একটা নৈতিক, ধর্মীয় ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। কারণ, সাংবিধানিকভাবে বিশ্বের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই গণহত্যার জন্য প্রধানতম দায়ী ব্যাক্তি নরেন্দ্র মোদিকে শিগগির বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। যা এ মুহূর্তে বাংলাদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য চরম উস্কানিমূলক। এই সাম্প্রদায়িক ঘৃণাচারি বাংলাদেশে আসলে, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়বে। দেশের শান্তিকামী মানুষ গুজরাটের কসাইখ্যাত দিল্লি গণহত্যার খলনায়ক নরেন্দ্রমোদিকে বাংলাদেশের মাটিতে কোনক্রমেই সহ্য করবে না।

তিনি আরো বলেন, মোদি বাংলাদেশে আসতে চাইলে ঢাকাসহ সারা দেশের বিমানবন্দর অচল করে দেয়া হবে এবং মোদির আগমনের কারণে দেশের অচল অবস্থ সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, দেশে শীর্ষ উলামায়ে কিরামের পরামর্শে হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফির নির্দেশে ভারতের চলমান সঙ্কট এবং বাংলাদেশে মোদির আগমন প্রতিহত করতে কঠোর কর্মসুচি গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন, হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম জাদীদ,

হেফাজত নেতা মুফতী মাহমুদুল হাসান গুনভী, মাওলানা নসীম সাহেব, মাওলানা মীর মুহাম্মদ কাসেম, মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আলী কাসেমী, মাওলানা জাফর আহমদ সাহেব, মাস্টার আহসানুল্লাহ, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মাওলানা কাজি সফিউল্লাহ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতী তৈয়ব, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা আব্দুর রহীম মাওলানা কামরুল কাসেমী, মাওলানা ইকবাল মাদানী, মাওলানা হাবীবুর রহমান হাবীব, মাওলানা আসাদুল্লাহ আসাদ, জনাব শফিউল আলম, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রমুখ। প্রতিবাদ সভার পর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর দোয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.