নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় জীবন নেছা অরুফে মিনি চৌধূরী (৬৫) নামে এক গৃহবধুকে জবাই করে হত্যা করেছে দূর্বত্তরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের পোষ্ট অফিস পাড়ায় গৃহবধূর নিজ বাড়ীর রান্না ঘরে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধু জীবন নেছা জেলার রানীনগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত কেসি মশিউর রহমান বাচ্চু চৌধূরী স্ত্রী। এ হত্যাকান্ড নিয়ে রহস্যের জট তৈরী হয়েছে। হত্যাকান্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ এই বাড়িতে এসে ভীড় জমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছর আগে ওই গৃহবধুর স্বামী কেসি মশিউর রহমান মারা যান। তিন মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে শহরের পোষ্ট অফিস পাড়ায় ওই বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় গৃহবধু জীবন নেছা একাই থাকতেন। গত এক তারিখে বাড়ির নিচ তলায় নতুন ভাড়াটিয়া উঠেছে তবে এ সময় নিচতলায় কেউ ছিলনা। নিচতলা সম্পূর্ন তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রান্না ঘরে রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এসময় প্রতিবেশীরা ওই বাড়ী থেকে চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনতে পান। জানালা দিয়ে ধস্তাধস্তির বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবেশিরাও চিৎকার শুরু করে। এরপর প্রতিবেশীরা ওই বাড়ির দিকে আসতেই অপরিচিত তিন লোককে দ্রæত বেরিয়ে যেতে দেখেন। তারা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই সিড়ির পাশে রক্ত মাখা ধারালো ছুরি দেখে আর ভিতরে না গিয়ে থানা পুলিশে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রান্না ঘরে গৃহবধু জীবন নেছার জবাই করা লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। এছাড়া বাড়ির অন্যান্য ঘরের আসবাবপত্রের কোন ধরনের তছনছের ঘটনা ঘটেনি।
আরো জানা যায়, গত ৮-৯ দিন থেকে নিহত গৃহবধু জীবন নেছার বাড়িতে তিনজন রং মিস্ত্রী রঙের কাজ করছিল। কাজের পরিশ্রমিকের টাকা নিয়ে তাদের সাথে নাকী কথাকাটাকাটিও হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে তাদেরকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এছাড়া গৃহবধু জীবন নেছার কোন ছেলে সন্তান ছিলনা। ফলে তার আত্মীয়দের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এ কারণে হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
নিহতের মেঝ মেয়ে ত্রীনা বিলাপ করে বলছিলেন, মাঝেমধ্যে মাকে বোনেরা এসে দেখে যেতাম। একটু অসুস্থ হলেই মা ছুটে যেতেন আমার কাছে। কথাগুলো বলছিলেন আর মামা বেলাল হোসেনকে জড়িয়ে ধরে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই বেলাল হোসেন বলেন, আসলে কি কারণে আমার বোনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে তা বুঝতে পারছিনা। আমার বোনকে পরিকল্পিত ভাবেই হত্যা করেছে দূর্বত্তরা।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। কি কারণে বয়স্ক মহিলাকে হত্যা করা হবে হয়েছে সেটিও দেখা হচ্ছে। পারিবারিক শত্রæতার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কাজে মেয়েকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, গৃহবধুকে জবাই করা ধারালো রক্ত মাখা ছুরি ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, হত্যার কোন মোটিভ এখন পর্যন্ত কিছুই অনুমান করা যাচ্ছেনা। তবে পুলিশ যথেষ্ঠ তৎপর রয়েছে। অবিলম্বে হত্যাকান্ডের মোটিভসহ দোষীদের গ্রেফতার করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।