Saturday, August 8

নগরীতে বাংলাবাজার নামে পুরো সড়ক অবৈধ দোকানিদের দখলে, জনভোগান্তি চরমে

0

ন্যাশনাল নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন ব্যস্ততম সড়ক শেরশা-ফৌজদারহাট লিংকরোড ও তার পাশঘেষে টেক্সটাইলের দিকে যাওয়া সড়কের উপর অবৈধপ্রভাব খাটিয়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ৬০টি ভাসমান দোকানের বাংলাবাজার। যার ফলে সড়কটি জনবহুল হলেও জনভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে নিয়মিত। মিল ফ্যাক্টরী থাকায় তাদের পন্য পরিবহনেও ঝামেলায় পড়তে হয় বলে জানান ট্রাক চালকরা। কয়েকবার চসিক উচ্ছেদ করলেও এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় সড়কের উপর গড়ে উঠা এই অবৈধ বাজারটি চলছে। এই সড়কের উপর দিয়ে বাংলাবাজার, ডেবারপাড়, মুক্তিযোদ্ধা কলোনী ও টেক্সটাইল, রুবীগেইট, টেকনিক্যাল এলাকার মানুষ ও মিল ফ্যাক্টরীর মানুষসহ আরো কয়েকটি এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষের আসা যাওয়া। সেইসাথে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছেলে মেয়ে, অভিভাবক, অফিস আদালতে কর্মরত কর্মকর্তা ও পথচারী এবং যাত্রিদের যাতায়াত। নগরীর বাংলাবাজারের গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটি এখন সবার জন্য ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ মে উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আক্তারের জিপসহ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে মদদদাতারা। এ ঘটনায় আহত হন বায়েজিদ বোস্তাামী থানার এএসআই মুজিবুর রহমান, আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য। গত বছরের ১৮ অক্টোবর চসিকের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌস এর নেতৃত্বে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেই সময় এলাকার মানুষ সড়ক ও ফুটপাত ফিরে পেয়ে খুশি হন।
কিন্তু বছর যেতে না যেতেই অবৈধ দখলদাররা তাদের প্রভাব খাটিয়ে বাংলাবাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পুনরায় তাদের দখলে নিয়ে নেয়। দখলের সুযোগে ফুটপাত ও ড্রেনের উপর তৈরি অস্থায়ী দোকানের দখল-বেদখল নিয়েও একটি চক্র বাণিজ্য করছে রীতিমত। একটি মহলের প্ররোচনায় এই বাণিজ্য হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোকানদাররা জানান।

সড়কে চলা পথচারীরা ভোগান্তির স্বীকার হয়ে বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দুটোই তাদের দখলে। মানুষযে হাটবে তার জায়গাটাও থাকেনা। আছরের পর থেকেতো হাটা সম্ভব হয়ে উঠেনা। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রি ও অভিভাবকরা এই সড়কে চলতে অনেক কষ্ট হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলেও পড়ে পথচারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার কয়েকজন বলেন, জসিম ওরফে পানি জসিম হচ্ছে বাজার কমিটির সভাপতি ও ইব্রাহিম সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের ঘনিষ্টজন আরো কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক প্রভাব ও থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে মুলত চলে এই বাজার। এক দোকানি বলেন, আমরা রাতে ৫০ টাকা করে দেই। মাঝখানে মানিক নামে এক সোর্স তাদের হয়ে টাকা তুলতো। গত কায়েকদিন আগে তাকে বায়েজিদ থানাপুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে এখন জেলে আছে। সে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কয়েকদিন টাকা তুলে নাই। এখন আবার শুরু হয়েছে। টাকা কে তুলে তার জবাবে সে প্রতিবেদককে বলে, এখন এই নামটা বলতে পারবোনা।
এই বিষয়ে সভাপতি জসিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই বাজারের কোন কর্মকান্ডের সাথে বর্তমানে সম্পৃক্ত নই। আমার পক্ষ থেকে কোন চাঁদা বা টাকা তোলা হয়না। গ্রেফতার হওয়া মানিকের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন কারা বাজার নিয়ন্ত্রন করে, কারা চাঁদা তোলে। সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম বলেন, আমি বাজার কমিটির সেক্রেটারী হলেও উচ্ছেদের পর থেকে বর্তমান বাজারের সাথে আমি জড়িত নই। বাজার কারা চালায় তাও জানিনা। তবে সড়কের উপর বাজারটা পথচারীদের ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার কারন হয়ে দাড়িয়েছে, তা দেখতে পাচ্ছি ।
এই বিষয়ে জানতে ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবু বলেন, তারা সড়কের উপর অবৈধ দখলদার। তাদেরকে দোকান বরাদ্দ দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। এই সড়কটি পুনরায় দখলের ব্যাপারে আমি মেয়র সাহেবকে জানিয়েছি। মেয়র সাহেব বলছে, শীঘ্র্রই এসব অবৈধ দোকানিদের উচ্ছেদ করা হবে। এই বিষয়ে জানতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে ফোন দিলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.