Thursday, September 10

নতুনের কেতন উড়িয়ে গাও জীবনের জয়গান

0

অন্যদিনের মতো আজও সূর্য উঠবে প্রকৃতির নিয়মে। আজও সে সূর্য আলো ছড়িয়ে ভুবন আলোকিত করবে স্বাভাবিক নিয়মেই। উদীত সে সূর্যের আলোতে আলোকিত হবে একটি নতুন দিন, একটি নতুন বছর। পুরনো জরা-গ্লানি-হতাশাকে পেছনে ফেলে আবারও নতুন সম্ভাবনা আর স্বপ্নের জাল বোনা- এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথমদিন। স্বাগতম ২০১৮। শুভ হোক নতুন বছরের আগমন। দূর অতীতে গ্রিসের মানুষ অস্তপ্রায় লাল সূর্যকে জীর্ণ জীবনের প্রতীক হিসেবে বিদায় জানাত। সমুদ্র মায়ের কোলে বিলোপ হওয়া ক্লান্ত সূর্যের আবার পুনর্জন্ম পরদিন ভোরে সেই সমুদ্র গর্ভ থেকেই। এভাবেই বারবার বেজেছে ধ্বংস আর হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে নতুন জীবনের সুর।

ক্যালেন্ডারের ২০১৭ সালের শেষ পাতাটি ‘কালের যাত্রা’য় হারিয়ে গেলো ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টার ঘর ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে। অনেক পাওয়া আর না পাওয়ার মধ্যে শেষ হলো আরো একটি বছর। সেই সঙ্গে নতুন প্রত্যাশা আর স্বপ্নের উদ্ভাস নিয়ে শুরু হলো নতুন বছর ২০১৮।

নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ স্বাগত জানায় খ্রিস্টিয় নতুন বছরকে। মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। গেল বছরের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব খুঁজতে খুঁজতে নতুন বছরে আশা জাগিয়েছে নতুন নতুন স্বপ্ন। সেসব স্বপ্ন পূরণ হোক নতুন বছরে- এমন প্রত্যাশা রইলো।

গ্রেট ব্রিটেনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে বছর গণনা শুরু হয়। এটি প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেট ব্রিটেনে এ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয়। এ ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের আগে নাম ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার।

খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার মিসর দেশে প্রচলিত ক্যালেন্ডারটি রোমে এনে তার কিছুটা সংস্কার করে তার রোম সাম্রাজ্যে চালু করেন। এ ক্যালেন্ডারে জুলিয়াস সিজারের নামে জুলাই মাসের নামকরণ করা হয়। মিসরীয়রা বর্ষ গণনা করতো ৩৬৫ দিনে। মিসরীয়দের ক্যালেন্ডার সংস্কার করে জুলিয়াস সিজার যে ক্যালেন্ডার রোমে প্রবর্তন করলেন তাতে বছর হলো ৩শ’ সাড়ে পঁয়ষট্টি দিনে। তবে মিসরীয় ক্যালেন্ডার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন এ ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪২৩৬ অব্দে। ইংরেজি নববর্ষের প্রবর্তন নিয়ে ভিন্ন মতও আছে।

পশ্চিমা বিশ্ব এ দিনকে বিশেষ গুরত্ব দিয়ে পালন করে আসে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা ইংরেজি নববর্ষকে স্মরণ করতে বিশেষ আয়োজনে মেতে ওঠে। রাজধানী ঢাকায় এ উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে দেশের অন্য শহরগুলোতেও।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ উপলেক্ষে রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেলগুলোও বিশেষ আলোকসজ্জা করেছে।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.