Friday, September 4

নাইকো মামলার চার্জ গঠনের শুনানি ১০ এপ্রিল

0

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের শুনানির জন্য পরবর্তী দিন আগামী ১০ এপ্রিল ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার এই মামলায় পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে খালেদা জিয়াকে হাজির করার কথা ছিল। তবে তাকে হাজির করা হয়নি।

শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামি ১০ এপ্রিল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে আদালতের কার্যক্রম শেষ করেন বিচারক।

আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার শুনানি করে বলেন, অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। তাই পরবর্তী তারিখ দীর্ঘ করার প্রার্থনা করছি।

নাইকো মামলার শুনানি শেষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাঁকে আজ আদালতে হাজির করা হয়নি। খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে রাজি হয়েছেন। খালেদা জিয়াকে আজই হাসপাতালে নেয়া হবে।
শুনানি শেষে বিচারক ১০ এপ্রিল পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

পরে খালেদা জিয়াকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ১৯ মার্চ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদালতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সে দিন মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। আদালতে আসার আগে বমি করেছেন। মাথা সোজা রাখতে পারছেন না। এর আগে ৩ মার্চ ধার্য তারিখে মামলার অপর আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অভিযোগ গঠন শুনানি হয়।

মামলাসূত্রে জানা গেছে, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.