মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারসহ চারটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বিকালে কুয়ালালামপুরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
বুধবার কুয়ালালামপুরের একটি আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গের কারণে ফৌজদারি আইনে তিনটি ও ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত কারণে আনা আরেকটি অভিযোগের শুনানি হয়।
গত মে মাসে নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই নাজিবের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চলছিল। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
আজ নাজিবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
নাজিবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে নিজের গড়া রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ‘ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের বা ওয়ানএমডিবি’র অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া নাজিবের নির্দেশে ওই তহবিল থেকে বিভিন্ন বেনামি অ্যাকাউন্টে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ জমা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গতকাল টুইটারে এক ভিডিও পোস্টে নাজিব বলেন, অভিযোগগুলো বিশ্বাস করবেন না। অভিযোগগুলো সত্য নয়। আমার আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ রাখা হয়নি।
ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি তদন্তের দায়িত্ব থাকা একটি টাস্কফোর্স সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪০৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এসব হিসাবে রয়েছে ১১০ কোটি রিঙ্গিত। ওয়ানএমডিবির তহবিল থেকে এসব ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৮১ জন ব্যক্তি ও ৫৫টি কোম্পানি রয়েছে। ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯০০ লেনদেন হয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনের পর নাজিবের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৭৩ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিলাসবহুল অলঙ্কার সামগ্রী ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। মালয়েশিয়ার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্র জব্দের ঘটনা।