Monday, August 17

নামে-বেনামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠির আনাগোনা বাড়ছে পাহাড়ে, আতংকে আওয়ামীলীগ নেতারা

0

কিকিউ মার্মা, বান্দরবান : তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার ও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল সরকারের উদ্যাগে ১৯৯৭ সালে তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ে শান্তির লক্ষ্যে “শান্তি চুক্তি” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল পাহাড়ের পরিবেশ চুক্তি সম্পাদন হওয়ার পর অনেকাংশেই স্থিতিশীল হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি সময়ে পাহাড়ে নামে-বেনামে মায়ানমারের এ.এল.পি. নামধারী সন্ত্রাসী এ এলাকায় মগপার্টি নামধারণ করে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সমস্ত সন্ত্রাসী বাহিনীর নৈতিক অত্যাচারের শিকার হচ্ছে সাধারণ নিরীহ জনগণ। এমনকি সরকারী দলের প্রতিভাবান ত্যাগী নেতাকর্মীরা সন্ত্রাসীদের টার্গেট-এর শিকার হচ্ছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সরকারপন্থী নেতাকর্মীদের অব্যহত হুমকি প্রদান করায় তারা আজ সত্যি ঘর ছাড়া। বিশেষ করে গ্রামে বসবাসরত নেতাকর্মীরা অাতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
রবিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বান্দরবান জেলা পরিষদের কনফারেন্স হলরুমে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক পরিচালিত সন্ত্রাসী কার্যক্রম এর প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা এই অভিযোগ করেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান রাজুমং হেডম্যান, রাজবিলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ক্যঅংপ্রু, রেইচা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাবুখ্যই, পৌর ২নং ওয়ার্ড কউন্সিলর অজিত দাশ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পাইহ্লাঅং সহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
তিনি আরও বলেন, এই নামধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অপরাগত করলে তাদের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে, যার ফলে পাহাড়ের সরকারি উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে কারবারী, গ্রামবাসীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, জেএসএস, মগপার্টি, জেএসএস সংস্কার, ইউপিডিএফ গণতন্ত্র ইত্যাদি নামধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে ঘর/পরিবার প্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা এবং এলাকাপ্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা করে বাধ্যতামূলক চাঁদা প্রদান করতে অব্যহতভাবে হুমকী প্রদান করে যাচ্ছে। এই নির্ধারতি চাঁদা প্রদানে ব্যর্থ হলে গ্রামবাসীদের উপর নির্যাতন, অপহরণ ও গুম-হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা।
শেষে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি ও নির্যাতিত জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সর্বোপরি সম্প্রীতির বান্দরবানে শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা সহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছে সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.