নিখোঁজের ২২ দিন পর নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবীর চন্দ্র ঘোষ নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর খণ্ডিত এবং গলিত লাশ উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকি থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত প্রবীর ঘোষ শহরের কালীরবাজারের ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক। গত ১৮ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় কালিরবাজারের আরেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু সরকার (৩৫) ও তার দোকানের কারিগর বাপেন ভৌমিক (২৪)। পুলিশ বলছে, বাসায় ডেকে প্রবীর চন্দ্রকে হত্যা করেন পিন্টু ও বাপেন। তাদের ধারণা, খুনের পেছনে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। প্রবীরের মরদেহ যে বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার করা হয় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের দেওয়া তথ্যমতেই ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে হত্যা পর টুকরো করে কয়েকটি ব্যাগে সেফটিক ট্যাংকিতে ফেলে দেওয়া হয়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) নুরে আলম বলেন, প্রবীর চন্দ্র নিখোঁজের ঘটনায় পিন্টু সরকার ও বাপেন ভৌমিককে সোমবার সকালে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুজনকে নিয়ে নগরীর আমলাপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মোট তিনটি বস্তায় পাঁচ টুকরো মরদেহ পাওয়া যায়।
নুরে আলম বলেন, গত ১৮ জুন রাতে প্রবীর চন্দ্রকে ওই বাড়িতে হত্যা করা হয়। প্রবীর চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে পিন্টু সরকারের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা লেনদেনের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পিন্টু সরকার ও তার দোকানের কারিগর বাপেন সরকার ওই ভাড়া বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন আনুমানিক রাত ১০টার দিকে ফোন পেয়ে প্রবীর ঘোষ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে তার বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন।