মঈন বাঙ্গালী, হাটহাজারী প্রতিনিধি : তিনদিন ধরে নিঁখোজ চট্টগ্রাম হাটহাজারী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাছনীম সুলতানা তুহিন (১৩) এর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম, মডেল থানার ওসি মোঃ বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর, ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ সহ থানার কর্মকর্তারা রবিবার(১৬সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার কামাল পাড়া যুব সঙ্ঘের পশ্চিমে সালাম ম্যানসনের চতুর্থ তলার ফ্লাট থেকে তার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ঐ ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ইয়াবা আসক্ত শাহনেওয়াজ মুন্না (২২) কে গ্রেফতার করেছে। ওসি (তদন্ত) শামীম শেখ ন্যাশনাল নিউজ২৪বিডি কে বলেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তুহিনকে অপহরণ ও শ্বাশরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাদের বাসার সোফার নিচ থেকে বস্তাবন্দী তুহিনের লাশ উদ্ধার করি।
নিহত তুহিন ওই ভবনের নিচ তলায় বসবাসকারী গড়দুয়ারা ইউনিয়নের আবুল হাসেম সারাং বাড়ীর আবু তৈয়বের কন্যা ও ৯নং গডদুয়ারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাজী আবুল মনসুরের ভাতিজি।
তুহিন হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ঘাতক শাহনেওয়াজ মুন্না হাটহাজারী পৌরসভার চন্দ্রপুর গ্রামের দক্ষিন পাড়ার ডাঃ শাহজাহান সিরাজের ছেলে।
নিহত তুহিনের বড় ভাই আকিব জাবেদ বলেন তার পিতা-মাতা হজ্ব পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক তুহিনকে পড়াতে আসেন। এসময় ভবনের নিচ তলা থেকে ২য় তলায় পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে যায়নি। পরে অনেক খোঁজাখুজি করে তাকে পাওয়া না যাওয়ায় হাটহাজারী মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করা হয়।
নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম জানান, তুহিন নিখোঁজের পর থেকে ঘাতক মুন্নার আচরন সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুক্রবার রাতে মুন্নার বাবা মা বাসায় না থাকায় তার প্রতি সন্দেহ আরো বাড়তে থাকে। পরদিন মুন্নার বাবা মাকেও গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম আরো বলেন নিখোঁজের পরে ঘাতক মুন্না তার সাথে থেকে খোজাখুজির অভিনয় করে। তিনি বলেন মাদক আসক্ত পরিচয় দিয়ে আইনের ফাঁক ফোকরে যেন ঘাতক বেঁচে না যায়। আমরা তার সর্বোচ্ছ শাস্তি ফাঁসি চায়।
বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে হাটহাজারী-খাগডাছডি-রাঙ্গামাটি সডক অবরোধ করেন এবং থানার সামনে বিক্ষুব প্রদর্শন করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নিহত তুহিনের লাশ ময়নাতদন্তেরর জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। আসামী পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করার কথা বলা হয়ছে।