Monday, September 7

বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিন ও শিশু সমাবেশে প্রফেসর ড. অনুপম সেন
”নিজেদের প্রয়োজনেই আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে হবে”

0

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেছেন-বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্নসত্তার পরিণত হওয়া মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ। বাঙালি জাতির জন্য এক নির্মল আনন্দের দিন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি আছে, সেখানেই নিখাদ ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে তাঁর জন্মদিনটিকে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯ উপলক্ষে ১৭মার্চ বিকেলে জেলা শিশু একাডেমী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম আয়োজিত শিশু সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের অস্তিত্বের অংশ হয়ে গেছেন। নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই আমাদের বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগকে জানতে হবে। অস্তিত্ববিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে একটি পতাকা দিয়েছেন, একটি স্বাধীন ভুখন্ড দিয়েছেন এবং বিশ্ব সভায় বাঙালি জাতিকে মর্যাদায় আসনে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাঁরই দেখানোর পথ ধরে দেশ আজ এগিয়ে চলছে। নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু দেশ গড়ার কাজে খুব বেশি সময় পাননি। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির মদদে কতিপয় বিশ্বাসঘাতক সেনা সদস্য তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল। জাতির মুখে কালিমা লেপন করেছিল। বিদেশে থাকায় এ হত্যাকান্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে আবার বঙ্গন্ধুর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে নিতে প্রাণপন লড়াই করে চলছেন। নানাক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধান আলোচকের ভাষণে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ আজ জাতিসংঘের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। সারা বিশ্বের আড়াই হাজার বিখ্যাত ব্যক্তির ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আজকের শিশু আগামী দিনের কর্ণধার। তারাই দেশকে এগিয়ে নেবে। তাই আমরা চাই এ বাংলাদেশে একটি শিশুও পথশিশু থাকবে না। তারা কোথায় যায়, কী করে এসব বিষয়ে খবর রাখতে হবে। যাতে শিশুরা কোনো খারাপ কাজে জড়িয়ে বিপথগামী না হয়। শিশুদের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করে তাদের ব্যক্তিত্ব গঠন, সৃজনশীলতার বিকাশ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে বাংলাদেশ ও জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর. ড ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে দেশ গড়ার কাজে শুরু করে। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতে না পারায় দেশ আবার পিছিয়ে যায়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থাকায় বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আজীবন স্বপ্ন দেখতেন বাঙালির একটি পৃথক আবাসভূমির, যে আবাসভূমিতে বাঙালি নিজেই নিজের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক হবে। এই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কমপক্ষে তিনি দুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, পাকিস্তানের তেইশ বছরে জেলে গেছেন আঠারোবার; কিন্তু কখনো আপস করেননি। বাঙালির ন্যায্য দাবি আদায় করতে গিয়ে সবসময় গণতন্ত্রিক আন্দোলনের ওপর নির্ভর করেছেন, রোমান্টিক বিপ্লবী সাজার চেষ্টা করেননি তিনি। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন উদ্যাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী, সাংস্কৃতিক সংগঠক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন ও শিশু সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী আলী আশরাফ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, লেখক ও অধ্যাপক প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি বড়–য়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোর্শেদ মঞ্জুরুল ইসলাম, প্রকৌশলী ফয়জুল আলিম আলো, নগর যুবলীগের সদস্য সুমন দেবনাথ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত। ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল ৭টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল, বিকাল ৫টায় শিশুদের নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিনের কেক কাটা অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সভা খোকা নামের শিশুটি যিনি পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন’। শেষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত করে নান্দনিক সাংস্কৃতিক উৎসব। এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন দ্যা স্কুল অব ফোক ড্যান্স, চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী, ঘোঙর নৃত্যকলা একডেমী, ওড়িশী টেগোর এন্ড ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সঙ্গীত পরিবেশন করেন বেতার টেলিভিশন শিল্পী মো: হেলাল উদ্দিন, ইলমে বিনতে বখতিয়ার প্রমুখ।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.