Wednesday, September 9

নিজের গোলা খুলে দিয়ে ধান বিলিয়ে দিতেন বঙ্গবন্ধু- প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পরিবারের সহযোগীতায় বিরাট হৃদয়ের অধিকারী হয়ে উঠে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এদেশে প্রায়ই দুর্ভিক্ষ লেগে থাকতো নিজের গোলা খুলে দিয়ে ধান বিলিয়ে দিতেন তিনি। আমার দাদা-দাদি কখনও বকাঝকা করেননি। সবসময় তার ভেতরে একটা দানশীল মোনোভাব ছিল, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসার টানেই তিনি আমাদের এই স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। আজকে আমাদের লক্ষ্য তিনি যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন উন্নত সমৃদ্ধা বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আজ রোববার বেলা ১২টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানব দরদি ছিলেন। নিজের বই গরিব ছাত্রদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। স্কুলে যাওয়ার সময় নিজের ছাতা অন্যকে দিয়ে দিতেন। নিজের গোলার ধান বের করে নির্দিধায় গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতেন তিনি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ একটি উন্নত জীবন পাবে, এটাই তার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সে কাজ তিনি করে যেতে পারেননি। ১৫ই আগস্ট তাকে মেরে ফেলা হলো। আমি পরিবার হারালাম, আপনজন হারালাম কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের স্বাধীনতার চেতনা, উন্নত জীবন পাওয়ার সম্ভাবনা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরিবারের সহযোগীতায় বিরাট হৃদয়ের অধিকারী হয়ে উঠে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এদেশে প্রায়ই দুর্ভিক্ষ লেগে থাকতো নিজের গোলা খুলে দিয়ে ধান বিলিয়ে দিতেন তিনি। আমার দাদা-দাদি কখনও বকাঝকা করেননি। সবসময় তার ভেতরে একটা দানশীল মোনোভাব ছিল, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসার টানেই তিনি আমাদের এই স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। আজকে আমাদের লক্ষ্য তিনি যেভাবে দেখতে চেয়েছিলেন উন্নত সমৃদ্ধা বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সে লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

এর আগে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা গার্ড অব অনার দেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফাহেতা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপর বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে রক্ষিত মন্তব্য বইতে মন্তব্য লেখেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসাবে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও বঙ্গবন্ধুর বেদীতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এটিএম ফজলে রাব্বি মিঞা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, লে.কর্ণেল(অব.)মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি, কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ তন্ময় এমপিসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.