Monday, September 7

নির্বাচনী সহিংসতায় সারাদেশে আটজন নিহত, কয়েক’শ নেতাকর্মী আহত

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে আটজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েক’শ নেতাকর্মী। নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রসেনার নেতাকর্মী রয়েছেন বলে দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আজ রবিবার সকাল আটটায় সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপরই বিভিন্ন জায়গা থেকে সংঘর্ষের খবর আসতে থাকে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় দুইজন করে এবং রাঙামাটি, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও বগুড়ায় একজন করে নিহত হয়েছেন।

চট্টগ্রামের পটিয়া ও বাঁশখালীতে সহিংসতায় দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন— আবু সাদেক পটিয়ার ও আহমেদ কবির।জানা গেছে, পটিয়ার ঝিরি এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আবু সাদেক নামে এক যুবক নিহত হন। তিনি ইসলামী ছাত্রসেনার সদস্য বলে দাবি করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।অন্যদিকে বাঁশখালিতে ভোটকেন্দ্র দখল করাকে কেন্দ্র করে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোর আড়াইটার দিকে কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানান, নিহত ব্যক্তি জামায়াতের সমর্থক।

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ, লালমাই, নাঙ্গলকোট) সংসদীয় আসনের নাঙ্গলকোট উপজেলায় বাচ্চু মিয়া (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে হেলমেটধারী একদল দুর্বৃত্ত হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ওই উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের মোরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও চান্দিনা উপজেলায় ‘পুলিশের গুলিতে’ মজিব (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরো দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রবিবার বেলা ১১টার দিকে পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বেলাশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মজিবুর রহমান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার লাজৈর গ্রামের সুজাত আলীর ছেলে। তিনি চান্দিনার পশ্চিম বেলাশহর এলাকার ভাড়াটিয়া বসবাস করার সুবাদে ওই এলাকার ভোটার। তিনি চান্দিনার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

রাঙামাটি জেলার কাউখালিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে মো. বাছির উদ্দিন (৩৬) নামে এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকালে কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের রাঙ্গীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মো. বাছির উদ্দিন কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কাশখালী গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান জানান, সকালে রাঙ্গীপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে বাছিরসহ ১১ জন আহত হন। বাছিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের কাউখালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের পাইকপাড়া ভোটকেন্দ্রে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে মেরাজুল (২৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।এর আগে ভোর ছয়টা থেকে বিএনপির কর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের বাধা দিতে গেলে সংঘষের্র সূচনা হয়। সংঘষের্র মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মেরাজুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ খবর নিশ্চিত করেছেন মোহনপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত এবং আহত হয়েছেন পুলিশসহ কমপক্ষে ১০জন। নিহত ইসরাইল (১৯), রাজঘর গ্রামের সায়েদুল ইসলামের পুত্র। পেশায় রাজমিস্ত্রী। সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের রাজঘর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মহাজোট প্রার্থী র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী রাজঘর ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে আওয়ামীলীগ-বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে স্থানসীয়রা তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে গাড়ির পেছনের কাঁচা ভেঙ্গে ফেলে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ লাটিপেটা ও গুলি নিক্ষেপ করেন। এসময় ওই যুবক নিহত হন। এতে ইসরাইলসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের কাহালু উপজেলার পল্লীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আজিজুল হক(৩২) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে।আজিজুল হক কাহালু উপজেলার বাগইল দক্ষিণ পাড়া গ্রামের হায়দার আলীর পুত্র। আহত নাজমুল হুদা (৩৫) কাহালু উপজেলার পাইকড় ইউনিয়নের ৩নং ওয়াডের্র ইউপি সদস্য ও একই গ্রামের ছোলেমান আলীর পুত্র। নাজমুল হুদা বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আজিজুল হক ও নাজমুল হুদা তাদের লোকজন নিয়ে বাগইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবার সময় বিএনপি-জামায়াতের লোকজন তাদের উপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আজিজুল ও নাজমুল হুদাকে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আজিজুল মারা যায়। পরে নাজমুল হুদাকে টিএমএসএস থেকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির হামলায় একজনের মৃত্যু ও একজনের আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। সুত্র ইত্তেফাক

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.