একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শেষ হয়েছে। সভায় ভোটের তারিখ চূড়ান্তসহ মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহারের দিনক্ষণ ও তফসিলের বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশনের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
তবে চূড়ান্ত এ তারিখ সম্পর্কে এ মুহূর্তে কিছুই জানাতে চায়নি নির্বাচন কমিশন। আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন সিইসি। সেই ভাষণে নির্বাচনের তারিখ জানানো হবে। সে পর্যন্ত দেশবাসীকে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
বৈঠক শেষে চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এবং ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ যার যার কক্ষে চলে যান।
বৈঠকের বিষয়ে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, সব কিছু ঠিকমতোই এগোচ্ছে।
বৈঠকসূত্রে জানা গেছে, ২০ ডিসেম্বর নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনায় রেখে এ আলোচনা করছে নির্বাচন কমিশন। তবে আরেকটি সূত্র বলেছে, একাধিক তারিখ হাতে রাখছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণার পর কাল শুক্রবার থেকে সারা দেশে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হবে। প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখা হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ (আরপিও) ঋণখেলাপিসংক্রান্ত বিধিতে ত্রুটি রেখেই এ তফসিল ঘোষণা করা হচ্ছে।
৩১ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান সংসদের মেয়াদ রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে।
ধারণা করা হচ্ছে- বৈঠকে নেয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলো সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণায় তা জানাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা।
প্রসঙ্গত, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ-গণনা শুরু হয়েছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। এজন্য গত ১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি জানায় ইসি।