Thursday, September 10

জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের চেষ্টা চলছে
নিলুফা ভিলায় দুই জঙ্গির অবস্থান সনাক্ত

0

নরসিংদীর মাধবদীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িটি নিলুফা ভিলায় দুই সন্দেহভাজন জঙ্গির অবস্থান সনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। তাঁদের আত্মসমর্পনে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম।
বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে নিলুফা ভিলা থেকে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে নিয়ে আসা সংলাপে দক্ষটি একটি দলকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় দিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিট(সিটিটিসি)। এর মধ্যে জঙ্গিদের সংলাপে নিয়ে আসতে না পারলে অভিযান শুরু করা হবে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সিটিটিসির প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল যেখানে অভিযান চালানো হয়েছিল, সেখানকার মতো এখানের জঙ্গিদেরও আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা করেছি। দফায় দফায় তাদের নিগোশিয়েশনের নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নেই, সেহেতু তাদের লঘু শাস্তি দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। নানাভাবে অভয় দেয়া হলেও তারা সংলাপে আসছে না।

মনিরুল বলেন, নিগোশিয়েশনে দক্ষ এমন একটি দক্ষ টিম ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। তারা চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে জঙ্গিদের সংলাপে নিয়ে আসা যায়। কারণ আমরা একটি রক্তপাতহীন অভিযান চালাতে চাই। যখন কোনো উপায়ন্তর থাকবে না, তখনই কেবল অভিযান শুরু হবে।

বাড়িটতে একাধিক জঙ্গির চলাচল লক্ষ্য করা গেছে বলেও তিনি জানান। মনিরুল বলেন, অন্তত দুই জঙ্গি সেখানে রয়েছে। যাদের কাছে বিস্ফোরক আছে। তবে ধারনা করা হচ্ছে, নিলুফা ভিলায় দুই জঙ্গি রয়েছেন। দুইজনই নারী।
মঙ্গলবারের অভিযানে নিহতদের সম্পর্কে সিটিটিসি প্রধান বলেন, সেখানে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের হাতের ছাপ নেয়া হয়েছে। সেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএর নমুনাও নেয়া হয়েছে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সন্দেহ, অতীতে তারা জঙ্গি কাজে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী বলে মনে করছি। এছাড়া দুটি বাড়ির মালিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে মনিরুল জানান। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংলাপ চেষ্টার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরা দিয়ে বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সকাল থেকে মাধবদী পৌরসভার ছোট গদাইরচরের সাততলা ওই ভবনের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগের দিনের মতোই নিলুফা ভিলার ৫০০ মিটারের মধ্যে জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।

এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ বলে আশপাশের লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি মার্কেটের দোকানপাট এবং ছয়টি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভবনটির ভেতর মিফতাহুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরও সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ওই আস্তানার দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে সোয়াত সদস্যদের। তবে চূড়ান্ত অভিযান কখন শুরু হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে।

মনিরুল মঙ্গলবার ভগীরথপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন- মাধবদীর বাড়িতে থাকা জঙ্গিদের তারা আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানাবেন। তারা আত্মসমর্পণ করলে অভিযান চালানোর প্রয়োজন হবে না।

অভিযান শেষে এদিন বিকালে দুজনের লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন মনিরুল। নিলুফা ভিলার মালিক হাজী আফজাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি নরসিংদী শহরে থাকেন।

ভবনটির প্রথম থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত রয়েছে মিফতাহুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা। ভবনটির পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

আর মোটামুটি দুই কিলোমিটার দূরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগীরথপুরে পাঁচ তলা যে বাড়িতে মঙ্গলবার সোয়াত অভিযান চালায়, তার মালিক বিল্লাল হোসেন নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী। ওই ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে জঙ্গিরা অবস্থান নিয়ে ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।

দুটি বাসাই এ মাসের ৭ তারিখে ভাড়া নেয়া হয়েছে বলে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়।
ভগীরথপুর ও মাধবদীর দুই বাড়ির জঙ্গিদের মধ্যে সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও তথ্য পাওয়ার কথা জানান কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.