Saturday, September 5

নুসরাতকে হত্যাচেষ্টায় মামলা, গ্রেপ্তার ৭

0

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনদিন পর সোমবার তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে হত্যা চেষ্টাকারী বোরকা পরিহিত ৪ জন আসামিসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানা ও ডিবি পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ওই মাদ্রাসার নাইটগার্ড ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. মোস্তফা, দপ্তরি মো. নূরুল আমিন, মাদরাসার সাবেক ছাত্র সাইদুল হক, অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নেয়া যুবক জসিমউদ্দিন, আলাউদ্দিন, মাদরাসার ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও আলীম পরীক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। তাদেরকে মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আহত ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদি হয়ে গতকাল মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আমরা ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে মাদরাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাহ অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে তার বোনকে ডেকে নিয়ে পরীক্ষার আধঘণ্টা পূর্বে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওইদিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে সে কারাগারে আছে। এঘটনায় কিছু লোক অধ্যক্ষের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নিতে তাদেরকে হুমকি দিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রের ৮নং কক্ষে প্রবেশ করে তার বোন আলীম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। এসময় নুসরাত জাহানকে তার এক সহপাঠি নিষাদকে মারছে বলে ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে বোরখা পরা ৪ জন অজ্ঞাত আসামি তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। এসময় সে রাজি না হলে ওই ৪ জন দুর্বৃত্ত তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনাটি গভীরভাবে অনুসন্ধান চলছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নুসরাত জাহান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাহ -এমন অভিযোগ এনে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.