Tuesday, September 1

নুসরাত হত্যা মামলার ৩য় আসামি শাহাদাত হোসেন গ্রেপ্তার

0

ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অন্যতম আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নুসরাত হত্যা মামলার তৃতীয় আসামি হিসেবে শামীমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান নেতৃত্বে একটি দল শাহাদাত হোসেন শামীমকে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে সকাল ৭টার দিকে ভালুকা উপেজলার আমতলি থেকে রাফিকে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ও সিরাজ-উদ-দৌলার একান্ত সহযোগী নুর উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা গেছে, যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে সিরাজ উদ দৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ নামে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সদস্য ছিলেন এই শাহাদাত হোসেন শামীম। তাদের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে গত ২৮ ও ৩০ মার্চ উপজেলা সদরে দুই দফা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। তারা নুসরাতের পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা প্রত্যাহার না করায় গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

রাফি অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম গা ঢাকা দেন। শুরুর দিকে স্থানীয় পুলিশ এদের গ্রেফতারের ব্যাপারে উদ্যোগ না নিয়ে বরং এটি আত্মহত্যার চেষ্টা বলে বক্তব্য দিয়েছিল স্থানীয় পুলিশ। সে সুযোগে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারে এই অপরাধীরা।

এই ঘটনার প্রথম দিন থেকেই সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সিরাজের একান্ত সহযোগী এই দুজন। ঘটনার মূল আসামি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নুর উদ্দিন ও শাহাদাত। এ দুজনকে ধরতে পারলেই মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের গায়ে যে চার বোরকাধারী আগুন দিয়েছে তাদের নাম বেরিয়ে আসবে বলে এলাকার মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধারণা।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.