Monday, July 27

পহেলা আগস্ট থেকে খুলছে গার্মেন্টস, লকডাউনে বাড়িতে থাকা কর্মিদের বাধ্যবাধকতা নাই

0

সরকারের ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ চলছে ।এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আট দিনের মাথায় গতকাল শুক্রবার রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। গতকাল বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রপ্তানিমুখী শিল্প খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রপ্তানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধি-নিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।

এর মাধ্যমে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে বদল এলো। গত ১৩ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ঈদের এক দিন পর অর্থাৎ ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিনের টানা কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার। ঈদের পর শুরু হওয়া লকডাউনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানাকে লকডাউনের বাইরে রাখার আবেদন জানান। কিন্তু সরকার বরাবরই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে।

সার্বিকভাবে লকডাউন পরিস্থিতি মূল্যায়নে গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদসচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, উচ্চ পর্যায়ের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী কর্মকর্তা, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিজিবির ডিজিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নিল সরকার। এর কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র বলেন, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত নানা যৌক্তিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে অন্য ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধের কঠোরতা বজায় থাকবে।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ঈদের ছুটির আগেই আশা করেছিলেন সরকার এই খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী ১ আগস্ট থেকে কারখানা খোলার সুযোগ দেবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যে এই তারিখে কারখানা খোলা হতে পারে, তাঁরা যেন সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। এই বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান চিঠিও দেন সদস্য কারখানাগুলোকে। অবশেষে তাঁদের সেই আশা পূরণ হলো।

আজ শনিবার এক দিনের মধ্যে তাঁদের ঢাকায় আসতে হবে। পরিবহন বন্ধ থাকায় তাঁরা কিভাবে আসবেন, সেই নির্দেশনা নেই। তবে এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গত রাতে বলেন, ‘শ্রমিকদের মধ্যে যাঁরা ঈদের পরের দিন এবং এই কয়েক দিনে বিচ্ছিন্নভাবে ঢাকায় এসেছেন বা এরই মধ্যে কারখানার আশপাশে রয়েছেন, শুধু তাঁদের নিয়েই কারখানা চালু করবেন গার্মেন্ট মালিকরা। আর যাঁরা বাড়িতে অবস্থান করছেন তাঁরা ৫ আগস্টের পর গাড়ি চলাচল শুরু হলে ঢাকায় আসবেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকরা আমাদের কথা দিয়েছেন বাড়িতে অবস্থানরত শ্রমিকদের কারখানায় আসতে চাপ দিবেন না তাঁরা। আমরা কঠোরভাবে বলেছি, এই সময়ের মধ্যে কোনো বাস চলবে না। যাঁরা রয়েছেন তাঁদের নিয়েই স্বল্প পরিসরে কাজ করতে হবে। শিল্প-কলকারখানার মালিক এবং তাঁদের সংগঠনগুলো এই শর্ত মেনে নিয়েছে।’

করোনা মোকাবেলায় সরকার গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে অন্ততপক্ষে আমাদের সঙ্গে সরকারের আলাপ করা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি। আমাদের জায়গা থেকে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন যেটা হবে তাহলো সংক্রমণ পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে আরো ঊর্ধ্বমুখী হবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আমরা একটি বৈঠক ডাকব।’

সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আকতার বলেন, হঠাৎ কারখানা খুলে দেওয়ার সরকারের এমন সিদ্ধান্তে শ্রমিকরা আবারও সংকটে পড়ে গেলেন। তিনি আরো বলেন, যাঁরা ছুটিতে গ্রামে চলে গেছেন তাঁদের এখন কী হবে? তাঁরা এখন মজুরিও হারাবে, একই সঙ্গে চাকরি যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর কারখানা হঠাৎ খুলে দেওয়ায় শ্রমিকরা হেঁটে ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে এসে কারখানায় যোগ দিলেও কোনো ঝুঁকি ভাতা বা যাতায়াত ভাতা পাননি। এবারও মালিকদের সুবিধা দিলেও শ্রমিকরা বরাবরের মতো বঞ্চিত হবেন। শ্রমিকদের এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.