Saturday, August 1

পাঁচলাইশে জাতিসংঘ সবুজ উদ্যানে গনপূর্তের দোকান বরাদ্দ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ

0

কিউ এইচ কবিরঃ
চটগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকাটি প্রতিনিয়ত বানিজ্যিকরনের কবলে হারিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তার হুমকিতে এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, এই আবাসিকের প্রতিটি বাড়িই পরিণত হচ্ছে একেকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। প্রতিদিনই একটা না একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। ভবনের নিচতলার পার্কিংয়ের জায়গাও যেন এ থেকে বাদ যাচ্ছেনা। বানিজ্যিকরনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর শত অভিযোগ থাকলেও এতসব বানিজ্যকরনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেনা গণপূর্ত, সিডিএ ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই মধ্যে পাঁচলাইশ আবাসিকের জাতিসংঘ সবুজ উদ্যানে গণর্পূর্তের দোকান নির্মান করে বরাদ্ধ দেয়া নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
গত ২০১৫ সালের ৮ জুনের মন্ত্রিসভার নির্দেশনা অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে না। অথচ সে আইনের কোনরকম তোয়াক্কা না করেই এই এলাকায় গড়ে উঠছে অসংখ্য প্রাইভেট ক্লিনিক, হসপিটাল, অর্ধশত ডায়গনস্টিক সেন্টার, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যাংক, স্কুল, মুদিমনিহারি দোকান, লন্ড্রি, সেলুন, রেস্তোরাঁ, এটিএম বুথসহ নানা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। আবাসিকে বসবাসরত পরিবারের বাসিন্দারা প্রতিবেদককে জানান তাদের প্রতিদিন ও প্রতিমুহুর্তের নিরাপত্তাহীনতার কথা।
জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনকে দেয়া ভাড়া চুক্তিপত্র প্রত্যাহার করে এই আবাসিকের মানুষের চিত্তবিনোদনের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রনালয় কতৃক জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান নির্মান করেন। এই উদ্যগ ও নির্মানে এলাকার মানুষ উচ্ছসিত হোন। একটি আবাসিকের উদ্যানে গণপুর্ত মন্ত্রনালয়ের পুনরায় দোকান বরাদ্ধ দেয়া বানিজ্যিকরনের সামিল। এ নিয়ে এলাকাবাসির মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাধতে থাকলো। জাতিসংঘ সবুজ উদ্যানে দোকান বরাদ্দ না দেয়া প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যান সমিতির পক্ষ থেকে গনপূর্ত কতৃপক্ষের বরাবর গত ২৭শে অক্টোবর২০২৪ ইং তারিখে একটি দরখাস্ত দেন। এতে তারা দাবি করেন যে, এর আগে এই আবাসিকে বানিজ্যকরণ বন্ধে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়। গণপূর্ত বলেছিল দোকান করা প্রসঙ্গেঁ গণপূর্ত এলাকার জনগণকে নিয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবেন। কিন্তু কোনরুপ আলোচনা না করে দোকান নির্মান ও বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। যা এলাকার জনগণ কখনো মেনে নিবেনা। এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম নিয়েছে।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সেলিম বলেন, সিটি কর্পোরেশন যখন এই পার্কটিতে বানিজ্যকরন করতে চেয়েছিল আমরা সেই বানিজ্যিকরনের বিরুদ্ধে রীট করেছিলাম। সেই রীটের মাধ্যমে বানিজ্যকরণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। গণপূর্ত পরে সিটি কর্পোরেশনের ভাড়া চুক্তিপত্র বাতিল করে দিয়ে তারা আবাসিকের বাসিন্দাদের দৃষ্টিনন্দন ও চিত্তবিনোদণের জন্য নতুন করে জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান নির্মান করে। এতে এলাকাবাসী অনেক খুশি হন। গণপূর্ত কতৃপক্ষ এলাকাবাসীর সাথে কোন পরামর্শ না করে এই পার্কটিতে একটি দোকান নির্মান করে বরাদ্ধ দেন। আবাসিক পার্কে দোকান নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অসোন্তষ বিরাজ করছে। কারন এতে বানিজ্যিকরনকে উৎসাহিত করা হয় এবং আবাসিকের পরিবেশ নষ্ট করবে। আর সেই সাথে আবাসিকের পার্ক যদি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে তাতেও আবাসিকের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নষ্ট হবে। আমি এই এলাকার জনগণের পক্ষে পার্কে দোকান বরাদ্দের বিরুদ্ধে গণপূর্ত কতৃপক্ষকে দরখাস্ত দিয়েছি। আশা করি তারা শান্তিপূর্ন ব্যবস্থা নিবে।
গণর্পূর্ত-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম খান বলেন, পার্কে একটি দোকান বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে। এতে দর্শনার্থীদের পানিসহ সাময়িক কেনাকাটার জন্য। এতে পার্কের পরিবেশ কেন নষ্ট হবে বুঝতে পারছিনা। তবু আবাসিক এলাকার পার্ক হিসাবে বিষয়টি আমি মন্ত্রনালয়কে জানাবো। এবং আবাসিক পার্কে বাহির এলাকার দর্শনার্থী প্রবেশ বিষয়েও আমরা ভাবছি। আশাকরি খুব শীঘ্রই এসব বিষয়গুলো সমাধান করেই পার্ক চালূ করবো।

Leave A Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.